ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক ২০২৯-এর মাঝামাঝি শেষ হবে: মন্ত্রী মুক্তাদির

ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক ২০২৯-এর মাঝামাঝি শেষ হবে: মন্ত্রী মুক্তাদির - Surma Times | Sylhet News

লেন মহাসড়ক নিয়ে শুরু থেকে বাস্তব প্রয়োগ পর্যন্ত সবকিছু নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক ২০২৯-এর মাঝামাঝি শেষ হবে: মন্ত্রী মুক্তাদির - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ২৬ সেপ্টেম্বর: আগামী ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে। আগামী ১২ মাসের মধ্যেই এই মহাসড়কটির নতুন অবয়ব স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এ কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা চন্ডিপুলস্থ কুশিয়ারা কনভেনশন হলে সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা সহজীকরণ এবং এ অঞ্চলের শিল্প উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।

বিগত সরকারের আমলে কেবল পরিকল্পনা হলেও বাস্তবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার এটি দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজার পর্যন্ত পুরানো সড়কটিকে নতুন ৪ লেনের হাইওয়েতে রূপান্তর করা হবে।

রেল যোগাযোগে যুগান্তকারী পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তিনি জানান, ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ইতিমধ্যে ডুয়েলগেজ লাইন রয়েছে। আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের জন্য মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। দরকষাকষি শেষে দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। এটি সম্পন্ন হলে সকালে সিলেট থেকে ট্রেনে চেপে ঢাকায় দাপ্তরিক কাজ শেষ করে সন্ধ্যায়ই সিলেটে ফিরে আসা সম্ভব হবে। সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের বিদ্যমান গ্যাপ দূর করে একই মানের উন্নত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সিলেটে উৎপাদিত পণ্য কার্গো ট্রেনের মাধ্যমে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ইজ অব ডুইং বিজনেস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নতুন কোম্পানি গঠন, ট্রেড লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স, আইআরসি ও মেশিনপত্র আমদানির এলসি খোলার পুরো প্রক্রিয়া আগের ৩৫৫ দিনের বদলে মাত্র ১৪ কর্মদিবসে নামিয়ে আনার ব্যবস্থা চলছে। সিলেটের সিএমএসএমই শিল্পকে বেগবান করতে দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একর জমির ওপর একটি নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরই যার উন্নয়নকাজ শুরু হবে।

নগরীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সিলেটে মাদক ও অনলাইন জুয়ার কোনো স্থান হবে না। সিলেট শহরকে নিরাপদ রাখতে সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ পরিচালনায় পুরো শহরকে ড্রোন, ফেস রিকগনিশন ও ইনফ্রারেড প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি সেবার আধুনিকায়ন ও দুর্নীতি রোধে আরজেএসসিসহ বিভিন্ন সেবায় ফেস রিকগনিশন ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে অনলাইন ভেরিফিকেশন চালুর কথা জানান তিনি। সিলেটের ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষ করে তুলতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টাকে সঙ্গে নিয়ে শিগগিরই সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক মানের এআই ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল মনিম মল্লিক মুন্নার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদী পাবেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বিপিএম, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন চৌধুরী, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু এবং সিলেট ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য সচিব রেজাউল করিম নাচন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি পাবেল। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কালামে পাক থেকে তেলাওয়াত করেন সংগঠনের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফিরোজ উদ্দিন এবং গীতা পাঠ করেন যুগ্ম সম্পাদক রতন দে।

দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচিত একটি প্রতিনিধির মাধ্যমে সিলেট চেম্বার অব কমার্স গঠন করা হোক। মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ দেখিয়ে দিয়েছে, তারা সিলেট চেম্বার অব কমার্স থেকে কোনো অংশে কম নয়। সিলেট একটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির নগরী। এখানে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। অসময়ে মেলা হয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এটাও একটি শৃঙ্খলার ভেতরে নিয়ে আসা উচিত। না হলে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে উৎসাহ হারাবেন।

দ্বিতীয় অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেডের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শ্যামা হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াজ আহমদ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক আমিরুজ্জামান চৌধুরী দুলু এবং সিলেট চেম্বারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুস সামাদ তুহেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article