সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও গোয়াইনঘাট শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে , তথ্য গোপনের অভিযোগ

সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও গোয়াইনঘাট শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে , তথ্য গোপনের অভিযোগ - Surma Times | Sylhet News

সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও গোয়াইনঘাট শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে , তথ্য গোপনের অভিযোগ - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ২ জুলাই: প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে দায়িত্ব পালন করছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বশির শরিফ -এমন অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি গ্রেফতার ও কারাভোগের বিষয়টি গোপন রেখে সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে তিনি কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, বশির শরিফ গত ১০ জুন গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর থেকে গ্রেফতার হন এবং প্রায় ১০ দিন কারাভোগ করেন। এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কারাভোগের পর তিনি পুনরায় দায়িত্বে যোগ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বশির শরিফ পূর্বে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলায় সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের হয়। রায়হান মিয়া বাদী হয়ে ফরিদপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা ওই মামলার নম্বর জি.আর. ৪৮১/২৪ (সদরপুর সি.আর. ৪৮১/২৪)।

পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মামলার রায়ে বশির শরিফকে দণ্ডবিধির ১৩৮ ধারায় ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। আইনি বিধান অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে ৪৮ ঘণ্টার বেশি হাজতবাস করলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই বিধান কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বশির শরিফ অভিযোগ অস্বীকার না করে প্রতিবেদককে বিভিন্নভাবে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা গেছে।

প্রতিক্রিয়ায় গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন ভূইয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার গ্রেফতারের বিষয়টি অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে এবং নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ.কে.এম সাইফুল হাসান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

পটভূমিতে জানা যায়, সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার ও কারাভোগের তথ্য গোপন রাখা গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ভিত্তি তৈরি করে।

সমাপ্তিতে বলা হয়, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ না হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article