স্বয়ংক্রিয় খসড়া নিয়ে শুরু থেকে বাস্তব প্রয়োগ পর্যন্ত সবকিছু নিচে আলোচনা করা হয়েছে।
সিলেট, ২৬ সেপ্টেম্বর: রাজকীয় সৌদি দূতাবাস আয়োজিত জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর সিলেট বিভাগীয় বাছাই পর্ব শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, এ ধরনের আয়োজন শিশু-কিশোরদের মধ্যে কোরআনের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করবে এবং ইসলামি মূল্যবোধ চর্চায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে।
তিনি আরও বলেন, কোরআন শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে। পবিত্র কোরআন শুধু ধর্মীয় জ্ঞানের উৎস নয়। এটি মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
বাংলাদেশের হাফেজদের মেধা ও দক্ষতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান হাফেজরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করছেন। তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সৌদি রাজকীয় দূতাবাস কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের হাফেজদের বিশ্ব দরবারে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের প্রতিভাকে বিকশিত করবে।
শনিবার বিকেলে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলের কনফারেন্স হলরুমে অনুষ্ঠিত এ বাছাই পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজকীয় সৌদি দূতাবাস ঢাকা বাংলাদেশ-এর দা’ঈ শায়েখ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানীর সভাপতিত্বে এবং এস এম সাইফুল্লাহ ও আসাদুল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সৌদি দূতাবাসের দা’ঈ শায়েখ বদর বিন ইসহাক আল মাদানী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, বাংলাদেশ ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপ-পরিচালক মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সিলেট জেলার মহাসচিব ও সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন এবং হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মো: আজিজুল করিম। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন হাফিজ রশিদ আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জিয়াউল হক নাসেহ।
দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের চারটি জেলার মাদরাসা থেকে আগত ৬০ জন কৃতী হাফেজ অংশগ্রহণ করেন। তারা মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও নিখুঁত মুখস্থ শৈলী প্রদর্শন করেন। অভিজ্ঞ ও প্রখ্যাত ক্বারী এবং আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারকমণ্ডলী প্যানেলে ছিলেন শায়েখ মামুনুর রশিদ আল মাদানী ও হাফিজ মাওলানা গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
মোট ৬০ জনের মধ্য থেকে তিনটি গ্রুপে যথাক্রমে ৩০ পারা ছেলে ৫ জন, ১৫ পারা ছেলে ৫ জন এবং মেয়ে ১৫ পারা ৪ জনসহ মোট ১৪ জনকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য বাছাই করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ বিজয়ী হাফেজদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। উত্তীর্ণ হাফেজগণ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এ বাছাই পর্বে সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসা শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শুধু প্রতিযোগিতামূলক নয়। এটি নতুন প্রজন্মকে কোরআনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত করার এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করছে।
আপনি যদি স্বয়ংক্রিয় খসড়া সম্পর্কে জানতে চান, উপরের অংশে মূল বিষয়গুলো ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে।







