
সিলেট, ২১ অক্টোবর: সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ১৬ অক্টোবর এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে নগরীর এক অভিজাত হোটেলে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে যৌথ সভায় বিরোধের অবসান ঘটে।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর বিশেষ মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ভিত্তিতে দুই পক্ষ একমত হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তার অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চায়। একই সঙ্গে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, চিকিৎসক ও রোগী উভয়ই সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কিন্তু সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তার অমানবিক ও অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে এবং দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে সিলেটের চিকিৎসা সেবায় রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মানবিক ও সংবেদনশীল আচরণ নিশ্চিত হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হতে পারেন।
সভায় মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আখলাক আহমেদ, মাউন্ট এডোরা হসপিটাল আখালিয়ার চিফ অপারেটিং অফিসার ডা. তানভীর-উজ-জামান এবং অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. রায়হান আহমেদ।
উভয় পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, বোগলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুল হক জুয়েল এবং বিএনপি নেতা মোরশেদ আলম। নবজাতকের পরিবারের পক্ষে সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন সাগর ও আব্দুল কুদ্দুছ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও নবজাতকের অভিভাবকরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ক্ষমাপ্রার্থনা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি মেনে নেন। চলমান ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। উভয় পক্ষ সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
এই সমঝোতা সিলেটের চিকিৎসা সেবায় রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে মানবিক আচরণের গুরুত্বকেই আবারও সামনে এনেছে।






