সিলেটে দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন, সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান প্রশাসক কাইয়ুমের

সিলেটে দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন, সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান প্রশাসক কাইয়ুমের - Surma Times | Sylhet News

সিলেটে দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন, সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান প্রশাসক কাইয়ুমের - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ২১ অক্টোবর: দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা সমাজে থেকে যাবে। অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয় এবং হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভাজনের অবসানই হওয়া উচিত সবার প্রত্যাশা।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার রক্ষায় বর্তমান বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট নগরীর চাঁদনীঘাটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার প্রতিমা নিরঞ্জন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চাঁদনীঘাটের অস্থায়ী সুবোধ মঞ্চে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেটের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হলো বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন। একে অপরের ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সম্মান জানানো এবং বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো এখানকার সামাজিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার; আর উৎসবের আনন্দ সবার। আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতের ভিন্নতা থাকলেও ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রশ্নে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়। কোনো ব্যক্তি যেন কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সেটি নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।’

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নগরবাসীর ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবগুলো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দময় পরিবেশে আয়োজনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এবারের দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট মহানগরীর পূজামণ্ডপগুলোর জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সড়ক মেরামত, গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও পূজামণ্ডপে আলোকসজ্জা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি সুব্রত দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পরিষদের সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার দাস ও মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশ।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, ঐক্য পরিষদ সিলেট জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপীকা শ্যাম পুরকায়স্থ এবং পূজা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক রজত কান্তি ভট্টাচার্য।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ, ঐক্য পরিষদ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব, পূজা ফ্রন্ট জেলার আহ্বায়ক খোকন রঞ্জন দে ও সদস্য সচিব কল্লোল জ্যোতি বিশ্বাস, পূজা ফ্রন্ট মহানগর শাখার আহ্বায়ক অর্জুন ঘোষ ও সদস্য সচিব উজ্জ্বল রঞ্জন চন্দ, ঐক্য ফ্রন্ট সিলেট মহানগরের সদস্য সচিব রাজীব কুমার দে রাজু এবং ঐক্য ফ্রন্ট সিলেট জেলার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ ধর।

এ ছাড়া পূজা পরিষদ সিলেট জেলা শাখার উপদেষ্টা সাংবাদিক অপূর্ব শর্মা, পূজা পরিষদ মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোজ দত্ত মুন্না ও নন্দন চন্দ্র পাল, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ রঞ্জন এষ, ছাত্র ঐক্য সিলেট জেলার সভাপতি মিথিল পাল প্রান্ত, পূজা পরিষদ মহানগরের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিপ্লব দে মাধব, শাহপরান থানার সভাপতি বিরেশ দেবনাথ, মোগলাবাজার থানার সভাপতি মনমোহন দেবনাথ, শিবব্রত ভৌমিক চন্দন, টিটন মল্লিক, ঝলক আচার্য্য, শৈলেন কর, চিত্রশিল্পী ভানু লাল দাস, লিটন চন্দ্র দাস, অরুন কুমার বিশ্বাস ও দুলাল চন্দ্র দেবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এবার সিলেট মহানগরীতে ১৬২টি এবং জেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজা শেষে নগরীর চাঁদনীঘাটে প্রায় শতাধিক প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তাও উঠে আসে।

দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করায় সিলেটের পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার নেতারা।

তাঁদের মতে, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে। দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির এই আয়োজন সিলেটে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা তুলে ধরেছে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article