সিলেট, ২২ অক্টোবর: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট ও পাল্টা কমেন্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মাটিয়ান গ্রামে।
সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য কাঁচা মিয়ার সমর্থকরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে নারীসংক্রান্ত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাঁচা মিয়া মেম্বারের সমর্থক মনসুর মিয়ার ছেলে ইমন আহমেদ (২৩) এবং সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের লোকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
কিন্তু সালিশের পরও বিরোধের অবসান হয়নি। কয়েক দিন আগে ইমন আহমেদ ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে সেটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি কমেন্ট শুরু হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিরোধের সমাধানের চেষ্টা করেন। তবু ওই রাতেই দুই পক্ষের মধ্যে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেন। দুপুরের দিকে শেষে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে আহতদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে নুরুল ইসলামের পক্ষের রিফাত মিয়া (২০) এবং কাঁচা মিয়া মেম্বারের পক্ষের শাহীনুর মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক।
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখুঞ্জি বলেন, গতকাল দুই পক্ষের বিরোধ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু সালিশের পরও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাঁরা আবার বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। রাতে ও বুধবার সকালে আমি তাঁদের অনেক বুঝিয়েছি, কিন্তু তাঁরা আমার কথা শোনেননি। পরে দুপুরের দিকে তাঁরা সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলেন। মাটিয়ান গ্রামের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট একটি বিরোধ কীভাবে বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে, তারই নতুন উদাহরণ হয়ে উঠেছে এ ঘটনা। পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে নজরদারি অব্যাহত রাখা হচ্ছে।






