সিলেট, ২০ অক্টোবর: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রগুপুর ও রামপুর মৌজা এবং সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মেদিনী মহল মৌজার উর্বর কৃষিজমি রক্ষায় অপরিকল্পিত খাল খনন কর্মসূচি বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছেন এলাকার কৃষকরা। মঙ্গলবার সকালে সুনাপুর এলাকার ফসলি জমির উপর এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের স্বার্থসিদ্ধি ও চক্রান্তের কারণে অগ্রাধিকার খাল খনন কর্মসূচির নামে রগুপুর ও রামপুর মৌজার প্রায় ৩৫ একর এবং সদর উপজেলার মেদিনী মহল মৌজার প্রায় ৩ একর উর্বর কৃষিজমি ধ্বংসের নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
কৃষকরা জানান, যে স্থানে খাল খনন করে পানি প্রবাহিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা মূলত প্রায় একশত বছর আগে ভরাট হওয়া সুরমা নদীর অত্যন্ত উর্বর কৃষিভূমি। ১২৩১ বঙ্গাব্দ থেকেই হালাবাদী ছিটায় তাদের পূর্বপুরুষেরা এই জমির মালিকানা পেয়ে ভোগদখল করে আসছেন। বর্তমানে তাদের উত্তরাধিকারীরা এখানে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এখানে খাস বা পতিত জমি নেই বললেই চলে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত স্থান থেকে মাত্র দুই-তিন কিলোমিটার পশ্চিমে পুরাতন সুরমা নদীর ভরাট মুখে ইতিমধ্যেই একটি প্রাকৃতিক খাল বিদ্যমান রয়েছে। ওই খালটি বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন করে এবং শীত মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখে, যা দিয়ে সহজেই শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষ করা সম্ভব হয়। ফলে নতুন করে খাল খনন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং সরকারি অর্থ লুটপাটের পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছুই নয়।
উর্বর কৃষিজমি রক্ষা ও সরকারের টাকার অপচয় বন্ধে অবিলম্বে এই অপরিকল্পিত খাল খনন প্রকল্প বাতিলের জোর দাবি জানান স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষে কয়েছ মিয়া, মতছির আলী, শফিক মিয়া, দুলাল আহমদ, রফিক মিয়া, আলাল মিয়া, আব্দুল মতিন, আল আমিন, আব্দুল আজিজ, জালাল উদ্দিন, আব্দুল কাদির, আব্দুল হান্নান, আব্দুল মান্নান, আব্দুস শহীদ, আব্দুস ছামাদসহ অন্যান্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কৃষকদের এ প্রতিবাদ উর্বর জমি রক্ষার লড়াইকেই সামনে এনেছে।





