সিলেট: সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত একমাত্র পলাতক আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন লালাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম (২৪) সিলেটের বিশ্বনাথ থানার আনরপুর গ্রামের দবির মিয়ার ছেলে। র্যাব জানায়, তার বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(খ) ধারায় মামলা রয়েছে। মামলার নম্বর ১৪, তারিখ ১৮/০৮/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।
র্যাবের বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী বিশ্বনাথ থানাধীন শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় ১০ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রায় দেড় বছর আগে রবিউল ইসলামের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে রবিউল ইসলাম তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে ভুক্তভোগীর বাসায় রাতযাপন করেন এবং তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রবিউল ইসলাম ভুক্তভোগীর বাসায় রাতযাপন করেন। এ সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী বিয়ের বিষয়ে রবিউল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এরপর ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিকে আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সিলেট সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল শনিবার বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে এসএমপি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন লালাবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মামলার এজাহারভুক্ত একমাত্র পলাতক আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রবিউল ইসলামকে সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।






