সিলেটে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সিলেটে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন - Surma Times | Sylhet News

সিলেটে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ২০ অক্টোবর: যৌতুক, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে সুবিচারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাহিমা তাসনিম নামের এক ভুক্তভোগী নারী। মঙ্গলবার বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে তিনি স্বামী শাহ মোহাম্মদ শামস উদ্দিন শিপন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পরকীয়া, একাধিক বেআইনি বিবাহ, অব্যাহত শারীরিক নির্যাতন, অশালীন কুপ্রস্তাব এবং কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ তোলেন।

সিলেট নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়ার বাসিন্দা মো. মিন্টু মিয়া ও নুরজাহান বেগমের কন্যা রাহিমা তাসনিম জানান, ২০১০ সালের ৩ মার্চ প্রেমের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে শাহ মোহাম্মদ শামস উদ্দিন শিপনের সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। এক বছর পর পারিবারিকভাবে তাদের মেনে নেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৬ বছরের সংসার জীবনে তাদের তিনটি সন্তান জন্ম নেয়। একজন মারা গেলেও বর্তমানে দুই সন্তান রয়েছে।

রাহিমা তাসনিম অভিযোগ করেন, বড় ছেলের জন্মের পর থেকেই স্বামীর আসল রূপ বেরিয়ে আসে। বিয়ের পর থেকেই তাকে বিভিন্ন সময় কয়েক লাখ টাকা ও বিয়ের সোনাগয়না দেওয়া হয়, যা বিক্রি করে স্বামী নেশায় ও পরকীয়ায় উড়িয়ে দেন। যৌথ ব্যবসা সান টেলিকম টেকনো শোরুমের নামে চাপ সৃষ্টি করে তার বোনের স্বামীর কাছ থেকে দুই দফায় নয় লাখ টাকা ধার নেন শিপন, যা আর ফেরত দেননি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ২০১৭ সালে ইশিতা নওশিন নামের এক মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন শিপন। তিন মাস পর সেই বিয়ে ডিভোর্সে গড়ায়। ২০২৩ সালে প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালে স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ না দিয়ে তালাকের ভয় দেখিয়ে গোপনে তৃতীয় বিয়ে করেন তিনি।

চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রাহিমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর অসুস্থতার অজুহাতে ভাসুর আনোয়ার হোসেন, মাছুম, সালেখ মিয়া ও আলেক মিলে শিপনকে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ১০ লাখ টাকা নতুন যৌতুক দাবি করেন তারা। যৌতুক দিলে তৃতীয় স্ত্রীসহ সংসার করার শর্ত দেন। ১ অক্টোবর লাক্কাতুড়া এলাকায় ছেলের সাইকেল নিয়ে ঘোরাঘুরির সময় শিপন রাহিমার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

রাহিমা তাসনিম অভিযোগ করেন, তার ভাসুর আনোয়ার হোসেন ও সালেখ মিয়া স্বামীর অবর্তমানে তাকে বারবার শারীরিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দেন। আনোয়ারের বন্ধু বেলাল আহমদ বাড়ির গেটের সামনে অশালীন ইঙ্গিত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সহযোগিতা করতো স্থানীয় প্রভাবশালী পরিচয়ে অপকর্ম চালানো চক্রটি। লন্ডন প্রবাসী ভাসুরদের বিচার দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।

তৎকালীন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাত নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাঈদ আব্দুল্লাহর কাছে বিচার চেয়েও কোনো নিরপেক্ষতা পাননি বলে অভিযোগ করেন রাহিমা তাসনিম। তিনি বলেন, আজ আমি নিরুপায় হয়ে আপনাদের মাধ্যমে দেশের প্রশাসন, মানবাধিকার সংস্থা ও সচেতন সমাজের কাছে আমার জীবনের নিরাপত্তা ও সুবিচারের দাবি জানাচ্ছি। স্বামীর অন্যায় ও তৃতীয় স্ত্রীর পথ ছেড়ে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাকে প্রাপ্য মর্যাদায় সংসারে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article