সিলেট, ১৪ জুলাই: সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুর রহমানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের রায়ের পর তার পরিচয়, অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড সামনে আসছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাইফুর রহমানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায়। ঘটনার সময় তার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কের বাংলো উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শ্রেণির অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সাইফুর ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এমসি কলেজ ছাত্রাবাস এলাকায় তার প্রভাব ছিল। এছাড়া সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপ টিলাগড় ও আশপাশ এলাকায় ছিনতাইচক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরদিন তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর শাহপরান থানার উপপরিদর্শক মিল্টন সরকার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এর আগে ভোরে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তার কক্ষে অভিযান চালিয়ে একটি পাইপগানসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
শাহপরান থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি এবং দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল এবং মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।





