গোয়াইনঘাট: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থেকে গোয়াইনঘাটের সালুটিকর হয়ে সিলেট শহরের দিকে যাচ্ছিল একটি ডিআই পিকআপ। পথে একাধিক চেকপোস্ট অতিক্রম করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গোয়াইনঘাটের সালুটিকর বাজার পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে পিকআপটি থেকে ৩০টি ভারতীয় এমআরএফ (এমআরএফ) টায়ার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পিকআপে থাকা মো. রাকিব মিয়া নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, টায়ার ও পিকআপসহ জব্দ করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে সালুটিকর–কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়কের সালুটিকর বাজার পয়েন্টে এ অভিযান চালানো হয়। সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সাহাবউদ্দিন খানের নেতৃত্বে এএসআই মোহাম্মদ সারোয়ারসহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা চেকপোস্ট পরিচালনা করছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-ন-১৮-২৩৬৮ নম্বরের ডিআই পিকআপটি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশিতে পিকআপের ভেতর থেকে ভারতীয় এমআরএফ ৮ দশমিক ২৫-১৬ মাপের ৩০টি টায়ার পাওয়া যায়। পরে টায়ারসহ পিকআপটি জব্দ করা হয় এবং গাড়িতে থাকা রাকিব মিয়াকে আটক করে পুলিশ। আটক রাকিব মিয়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বৌবাজার পশ্চিম টুকেরবাজার এলাকার জমির মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাকিব মিয়া টায়ারগুলোর মালিক হিসেবে তৈয়মুরনগর (ভাঙ্গা) এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে আরাফাত হোসেনের নাম উল্লেখ করেছেন। তবে টায়ারগুলোর প্রকৃত মালিকানা এবং এগুলো কীভাবে দেশে এসেছে, তা এখনো তদন্তাধীন। আরাফাত হোসেনের বিরুদ্ধে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের যে অভিযোগের কথা স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, সেটিও যাচাই করে দেখছে পুলিশ।
এদিকে কোম্পানীগঞ্জের দিক থেকে আসা একটি পিকআপে বিপুলসংখ্যক টায়ার থাকার পরও সেটি কীভাবে বিভিন্ন চেকপোস্ট অতিক্রম করে সালুটিকর পর্যন্ত এলো—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগের বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, ভারতীয় টায়ার উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা টায়ার ও আটক ব্যক্তির বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চোরাচালানসহ অবৈধ পণ্য পরিবহনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা টায়ার ও পিকআপের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





