মাজারের পর এবার এলআর ফান্ড! স্বচ্ছতার দাবিতে সিলেটে নতুন আলোচনা

মাজারের পর এবার এলআর ফান্ড! স্বচ্ছতার দাবিতে সিলেটে নতুন আলোচনা - Surma Times | Sylhet News

মাজারের পর এবার এলআর ফান্ড! স্বচ্ছতার দাবিতে সিলেটে নতুন আলোচনা - Surma Times | Sylhet Newsসুরমা টাইমস ডেস্কঃ  হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা করে আলোচনায় থাকা সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগের পর এবার জেলা প্রশাসনের এলআর (স্থানীয় রাজস্ব) ফান্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন।

বুধবার সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “এটা দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিস। এটি আমাদের নজরে আছে। তবে যা করার আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে। পরিবর্তন করতে হলে সময় দিতে হবে। হুট করে কিছু করা যাবে না।”

**এলআর ফান্ড কী?**

এলআর ফান্ড মূলত স্থানীয় পর্যায়ে আদায়কৃত রাজস্ব এবং বেসরকারি চাঁদা ও অনুদানের অর্থে গঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অধীনে এই তহবিল পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ ফান্ডের স্বচ্ছতা, সঠিক ব্যবহার ও অপব্যবহার নিয়ে আলোচনা চলছে। টিআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থা এ ফান্ডকে অডিটের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে।

সারওয়ার আলম মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দানবাক্স সিলগালা ও নতুন বাক্স বসানোর উদ্যোগ নেন। তিনি বলেছিলেন, “মাজারে দান করা টাকা জনগণের টাকা। এর হিসাব জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।” এরপরই ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এলআর ফান্ডের হিসাবও প্রকাশের দাবি ওঠে। তবে সারওয়ার আলম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বা হিসাব প্রকাশের উদ্যোগ নেননি।

**মাজার ইস্যুতে চলমান তোলপাড়**

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসন নিজস্ব দানবাক্স স্থাপন করে। এ নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্ট খাদেম ও ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে রোববার সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। তার প্রত্যাহারের প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ হয়েছে।

সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার তিনি মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করান। চারদিনে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এটি মাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য গণনা বলে জানা গেছে।

এলআর ফান্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যের পর সিলেটের প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, মাজারের পর এখন এলআর ফান্ডেও স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

বর্তমানে সিলেটের প্রশাসনিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article