সিলেট, ৩ জুলাই: সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্ধিত ১৫টি ওয়ার্ডকে পরিকল্পিত উন্নয়নের আওতায় আনতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করা হয়েছে। নগরের এসব এলাকায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সড়ক, ড্রেনেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে মাস্টারপ্ল্যানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে সব উন্নয়ন কাজ পরিকল্পনা অনুসারে বাস্তবায়িত হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, বর্ধিত ১৫টি ওয়ার্ড এখনও গ্রামীণ চরিত্র বজায় রেখেছে। এসব এলাকায় সড়ক ও ড্রেনেজের কাজ চলছে। বিশাল এই অঞ্চলে পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা টেকসই উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
প্রশাসক আরও জানান, ওই এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ আসার পথে রয়েছে। এই অর্থ ছাড় হলে কাজ আরও গতি পাবে। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বর্ধিত এলাকাগুলোতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সীমিত ছিল। এখন সড়ক, ড্রেনেজ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন চলছে। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে এসব কাজ পরিকল্পিতভাবে এগোবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ড নগর উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হয়ে পড়বে।
এদিকে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টায় সিলেটকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে তাঁর অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। নগরবাসীর হাঁটাচলা, বিনোদন ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান তৈরির বিষয়টিও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী সভায় বলেন, সুন্দর, টেকসই ও আধুনিক নগর গড়তে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা। এ লক্ষ্যে সিলেটের জন্য সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরের পরিকল্পিত সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে সিলেট নগরে আরও পাঁচটি ওয়ার্ড বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে নগরের ওয়ার্ড সংখ্যা ৪২টি। নতুন পাঁচটি ওয়ার্ড যুক্ত হলে মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৭। নগর ভবনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এটি চূড়ান্ত হতে পারে। নতুন ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে চা বাগান বাদ দিয়ে এয়ারপোর্ট হয়ে বাদাঘাট কেন্দ্রীয় কারাগার পর্যন্ত এলাকা, দক্ষিণ সুরমার সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বাইপাস ও মোল্লারগাঁও এলাকা এবং সিলেট-তামাবিল সড়কের শাহপরান বাইপাস থেকে পীরের বাজার পর্যন্ত এলাকা।
এই মাস্টারপ্ল্যান ও ওয়ার্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিলেট নগরের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




