সুরমা টাইমস ডেস্কঃ বাংলাদেশের বেসরকারি নিরাপত্তা খাতে তিন দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততা, বিস্তৃত কর্মপরিধি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ পাঠিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ, পিএসসি (অবঃ)। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কর্মী দিবস উপলক্ষে ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে পাঠানো এ লেখায় তিনি নিজের অভিজ্ঞতা, এলিট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেডের কার্যক্রম, দেশের নিরাপত্তা খাতের অবদান এবং এ সেক্টরের স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
১৯৯৪-৯৫ সালে বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবসায় প্রবেশের কথা উল্লেখ করে শরীফ আজিজ লেখেন, এটি ছিল তাঁর পূর্ববর্তী পেশার সঙ্গেই ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, যেখানে তাঁর ২৫ বছরেরও অধিক সময়ের ইউনিফর্ম সার্ভিসের অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁর ভাষায়, আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি আজ পর্যন্ত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রাইভেট সিকিউরিটি সেক্টরে রয়েছেন। এই সময়ে তিনি দেশের দুটি বৃহৎ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান, ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড এবং এলিট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড, যা এলিট ফোর্স নামে পরিচিত, প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, এলিট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড বর্তমানে দেশের সর্ববৃহৎ প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানি, যেখানে ২৩ হাজারেরও বেশি কর্মী কাজ করছেন। তাঁদের অধিকাংশই বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চল থেকে আগত। পাশাপাশি, তিনি বহু পুরোনো ও অভিজ্ঞ প্রাক্তন সেনাসদস্যকে এ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এভাবে একটি অতি জনবহুল ও বেকারত্ব-প্রবণ দেশে ১২ লক্ষ মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রবন্ধের দ্বিতীয় অংশে তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক অবদান তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, দেশে বর্তমানে ৮০০টিরও বেশি নিরাপত্তা কোম্পানি কাজ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের মধ্যে দূতাবাস, হাইকমিশন, জাতিসংঘের সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনজিও, শিল্প, পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যালস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-অ্যাপার্টমেন্টসহ নানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এমন কোনো ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে না যেখানে বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষভাবে তিনি CIT, ATM ও Cash Management Service-এর কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতে প্রতিদিন ৫০০টিরও বেশি নগদ অর্থবাহী সাঁজোয়া ও বিশেষায়িত যানবাহনের মাধ্যমে আনুমানিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা নিরাপদে পরিবহন করা হয়। একই সঙ্গে দেশের ২৫ হাজারেরও বেশি এটিএম বুথে প্রতিদিন নগদ অর্থ সরবরাহ ও পুনঃসংযোজন করা হয়। তাঁর দাবি, বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আজ থেকেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, তবে দেশের এটিএম ব্যবস্থা ও নগদ লেনদেন কার্যত অচল হয়ে পড়বে। তিনি এটিকে এমন এক বিশাল ও দুরূহ অপারেশন হিসেবে বর্ণনা করেন, যা সরকারি বাহিনীর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা বাস্তবসম্মত নয়। এই খাতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে তিনি ১২ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের কথাই পুনরায় উল্লেখ করেন।
এলিট ফোর্সের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ১০০টিরও বেশি বিদেশি ক্লায়েন্ট বা বহুজাতিক
প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে, যা তাদের আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ এখন একটি গার্মেন্টস হাব এবং সস্তা শ্রমশক্তির কারণে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এলিট ফোর্স দক্ষতার সঙ্গে Google, Facebook, Pinkerton, Meta, Crisis-24, Netflix, CNN, IKEA, Siemens, Deloitte, Philips, PWC, Standard Chartered Bank, Citibank N/A, Woori Bank, Grameenphone, Telenor, Robi, Ever Care Hospital, icddr’b, British Council, VFS ইত্যাদির বিভিন্ন নিরাপত্তা সেবা প্রদান করছে বলেও তিনি লেখেন। তাঁর দাবি, উচ্চমানের সেবার কারণে বিদেশি গ্রাহকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক মানের সেবা চার্জ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে এবং গত কয়েক বছরে এলিট ফোর্স এককভাবে জাতীয় কোষাগারে ভাল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা রেমিট্যান্স হিসেবে জমা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, বেসিক গার্ড সার্ভিসের বাইরে অন্যান্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এলিট ফোর্স সেবার পরিধি বহুমুখী করেছে। তাঁর উল্লেখ করা সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে জরুরি প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম, দূরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা পরিচালনা, কর্মক্ষেত্রের অস্থিরতা ব্যবস্থাপনা, নৌ ও সমুদ্র নিরাপত্তা, ঘনিষ্ঠ ও নির্বাহী সুরক্ষা, অস্ত্রধারী নিরাপত্তা, নগদ অর্থ পরিবহন, তদন্ত, ইনস্যুরেন্স যাচাই ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, ইভেন্ট নিরাপত্তা, ইলেকট্রিক নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক্যাল সহায়তা।
নিজস্ব অবকাঠামো নিয়ে তিনি দাবি করেন, এলিট ফোর্স বাংলাদেশের প্রাইভেট সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রিতে “State of the Art” মানের অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে বারিধারা কূটনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত ৭ তলা বিশিষ্ট কর্পোরেট সদর দপ্তর, যাকে তিনি “Mini Pentagon of Bangladesh” হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বৈদেশিক কর্মসংস্থান কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেন্টার, ২৪ ঘণ্টা সেবা কেন্দ্র, এসএমএস অ্যালার্ট সেন্টার, গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র, চারটি ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিট, K9 ডগ স্কোয়াড, নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, Elite Force Multipurpose Complex এবং Learning Centre-এর কথাও তিনি লেখেন।
K9 ডগ স্কোয়াড সম্পর্কে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন, যেখানে ৬০টিরও বেশি প্রশিক্ষিত কুকুর রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাইভেট সেক্টরে Dog Squad পৃথিবীতে কোথায় আছে বলে জানা যায়নি, আর এ সৃষ্টি তাঁদের জন্য “ভিষণ রকমের সাফল্য” এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, কুকুরগুলো Sniffing, Searching, Guarding, Attacking, Patrolling, Games ইত্যাদি কাজে পারদর্শী। একই সঙ্গে বিনা পারিশ্রমিকে Public-এর জন্য অনেক Dog Show করার কথাও তিনি জানান, যা দেখতে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়।
প্রবন্ধের আরেকটি অংশে তিনি পরিষ্কার করে লেখেন, তাঁদের অধিকাংশ স্থাপনা এক বা দুই তলা বিশিষ্ট, সেনা ব্যারাক ধাঁচের; ২০ তলা ভবন নয়। তাঁর মতে, এসব স্থাপনায় শারীরিক প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা, শ্রেণিকক্ষ, বাসস্থান ও খাদ্যগ্রহণের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। এগুলোকে তিনি শিল্পের “Hallmarks of Excellence” হিসেবে বর্ণনা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি ত্যাগের গল্পও উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, এই জমিগুলোর ওপর ২০-২৫টি টাওয়ার নির্মাণ করে শত শত কোটি টাকা উপার্জন করা যেত, কিন্তু তাঁরা তা করেননি। উপরন্তু, “ভাল সাজতে গিয়ে বিপদে পড়েছি” বলেও তিনি লেখেন, এবং বিষয়টিকে “এক মহা কাব্য” হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, তাঁদের এসব সুবিধাসমূহ পরিদর্শন করেছেন একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি-মন্ত্রী, প্রাক্তন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রদূত, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানগণ, বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীরা। তিনি গর্বের সঙ্গে লেখেন, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তারা গানম্যান প্রদান করে আসছেন এবং তাঁর অন্যান্য স্থাপনায় বর্তমানে প্রায় ২০০ জনেরও বেশি গার্ড নিয়োজিত আছে। এসব ব্যক্তিত্ব তাঁদের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনাকে স্বচক্ষে দেখে “Unique, Awesome, Amazing, Incredible, World Class, Outstanding এবং Unparalleled” বলে বর্ণনা করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শরীফ আজিজ লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, তাঁরা দেশে-বিদেশে বেসরকারি নিরাপত্তা সেবায় নিজেদের বিশালভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং, টেলিকম, গার্মেন্টস, দূতাবাস ইত্যাদি জায়গায় তাঁদের গার্ড সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তিনি আরও দাবি করেন, Google, Safari, Yahoo Search, Bing, Linkedin Search, ChatGPT, Gemini, Gork, Perplexity, Instagram Search, Facebook Search, Twitter / X Search, WhatsApp, Wikipedia ইত্যাদি বড় বড় search engine, social media ও AI models-এ বাংলাদেশি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে Elite Force-এর নাম দৃশ্যমান হয়।
সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গও তিনি বিস্তারিতভাবে এনেছেন। তাঁর ভাষায়, সম্প্রতি তাঁরা Elite Force-কে একটি Charity Organisation হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং বড় পরিসরের একটি CSR কার্যক্রম চালু করেছেন। এর অংশ হিসেবে Donation / Zakat Fund গঠন করে প্রত্যেকদিন ছোট পরিসরে দুস্থ মানুষকে সাহায্য করা হয়। প্রতিদিন ১৫০-২০০ বাচ্চাকে দুপুরে খাবার খাওয়ানো হয় এবং স্কুলে যেতে উৎসাহ দেওয়া হয়। একটি ইংরেজি শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা, প্রত্যন্ত গ্রামে ৫০টিরও বেশি কম্পিউটারসহ একটি কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিউশন ফি সহায়তা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য গার্ডদের শিশুদের বৃত্তি কর্মসূচি, শত শত না হলেও অনেক স্কুল, মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও লেখেন, বছরে দুই বা তিনবার রক্তদান কর্মসূচি, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য Medical Clinic পরিচালনা, প্রতি বছর ১০-১৫ হাজার কম্বল বিতরণ, একটি বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনা, গুলশান ও বারিধারা এলাকার স্থানীয় ৫টি মসজিদে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা সহায়তা, এবং নিয়মিতভাবে গেমস ও ইভেন্ট স্পনসর করার মতো কর্মকাণ্ডও তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, আরও অনেক কিছুই তারা করেন, যা বলে শেষ করা যাবে না।
প্রবন্ধের শেষদিকে তিনি সরকারের কাছে বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য বড় সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উন্নত ও ডিজিটাল প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো সংস্থান এ খাতে নেই বললেই চলে। দেশ, সমাজ ও সাধারণ মানুষের জন্য বিশাল অবদান রাখলেও বেসরকারি নিরাপত্তা পরিষেবা এখনো সামাজিকভাবে সম্মানিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এই পেশায় সাধারণ মানুষের আগ্রহও কম, কারণ এটি খুব কম বেতনের কাজ। তিনি উল্লেখ করেন, একজন গার্ডের জন্য সরকারের ঘোষিত ন্যূনতম বেতন মাত্র ৯,০০০ টাকা, যা মাসে প্রায় ৬০ মার্কিন ডলারের সমান। তুলনামূলকভাবে উন্নত দেশে একজন নিরাপত্তা কর্মী এক দিনে ৮ ঘণ্টায় অন্তত ১৫০ থেকে ২৫০ মার্কিন ডলার উপার্জন করেন বলেও তিনি লেখেন। এ অবস্থাকে তিনি বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের একটি বড় বাস্তবতা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং বলেন, গ্রামের একটি মেয়ে একজন নিরাপত্তা প্রহরীকে বিয়ে করতে চায় না, কারণ সে জানে ছেলেটি গরিব এবং সমাজের অন্যান্য পোসাকধারী পরিষেবার মতো তার কোনো মর্যাদা নেই।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার কথাও তিনি স্মরণ করেন। তাঁর দাবি, সে সময় দেশে পুলিশ ক্রিয়াশীল না থাকায় প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিসেস কোম্পানিগুলো অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিল। গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা ও উত্তরায় তাঁরা প্রতি রাতে গাড়িসহ ১০/১২টি নাইট টহল দিতেন। ভাটারা থানা সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যাওয়ার পর তাঁরা সেই থানার অফিস এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও এই “দরিদ্র নিরাপত্তাকর্মীরা” অন্যান্য ফ্রন্টলাইন যোদ্ধার মতো নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন বলে তিনি লেখেন, তবে তাঁদের জন্য কোনো স্যালুট বা প্রণোদনা ছিল না। তবু বেসরকারি নিরাপত্তা পরিষেবা ব্যবসা হিসেবে টিকে আছে এবং উন্নত বিশ্বে এটি একটি বিশাল বড় ব্যবসা বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং তাঁরা দেশ ও জাতির জন্য আরও বড় অবদান রাখতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শেষ অংশে শরীফ আজিজ নিজের পেশাগত জীবনের আরেকটি দিক তুলে ধরে লেখেন, তিনি এই দেশের ৭/৮ জন রাষ্ট্রপতির সাথে এডিসি ও পিএস হিসেবে এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের CO হিসেবে বহু বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের বড় পরিসরের কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রায় ৫০টি দেশে তিনি ঘুরেছেন। পাকিস্তান আমলেও তিনি কোর্স ও ক্যাডারে উচ্চতর গ্রেডিং পেয়েছেন, পরে বাংলাদেশে এসে প্রায় সব কোর্সে প্রথম শ্রেণীতে বা প্রথম হয়েছেন। প্রতিযোগিতায় শীর্ষে থাকার জন্য এক বছরের জন্য বিদেশে Staff Course এবং আমেরিকায় কোর্স করার কথাও তিনি লেখেন। এসবের ফলেই তিনি নিজেকে “চরম বাস্তববাদী” এবং “Uncompromising” ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষায়, কোনো কিছুতেই তিনি সহজে convinced হন না এবং নেতিবাচক বিষয়গুলো আগে আলোচনা করা উচিত। অবসরের পর প্রায় ২০/২৫টি ব্যবসায় “ফেল” করার পর শুধু বেসরকারি নিরাপত্তা সেবা সংক্রান্ত ব্যবসায় সফল হয়েছেন বলেও তিনি লেখেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রতি মাসে প্রায় ২০-২২ কোটি টাকা ২৩ হাজারেরও বেশি গার্ডের বেতন প্রদান করা হয়, যদিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ করতে কষ্ট হয়। শেষ বাক্যে তিনি লেখেন, “Well done ! Brig Gen Sharif Aziz (Retd). I have no match !” এবং সব কিছুর জন্য আল্লাহ তা’আলার অশেষ শুকরিয়া আদায় করেন।
প্রবন্ধের উপসংহারে তিনি আবারও বলেন, বেসরকারি নিরাপত্তা পরিষেবা একটি ব্যবসা হিসেবে টিকে আছে এবং উন্নত বিশ্বে এটি একটি বিশাল বড় খাত। তাঁর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও ভালো হবে এবং দেশ ও জাতির জন্য তাঁরা আরও বড় অবদান রাখতে পারবেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে বেসরকারি নিরাপত্তা সেবার অগ্রপথিক হিসেবে গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) তাহের কুদ্দুসের নাম তুলে ধরে তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত করার অনুরোধ জানান। তাঁর ভাষায়, প্রায় ৪০ বছর আগে তাহের কুদ্দুস পুরোনো দারোয়ান-চৌকিদার ধারণার পরিবর্তে দেশে Uniformed Guarding Services চালু করেছিলেন। তাই তাঁকে “Father of Private Security Industry of Bangladesh” বলা বাড়িয়ে বলা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।







