ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার পাশ থেকে এক বাংলাদেশি কিশোরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। শনিবার দিনগত রাত ২টার দিকে ত্রিপুরা রাজ্যের লঙ্কামুড়া সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা সানমুড়া সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের পাশে পড়ে থাকা লাশটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন।
নিহত কিশোরের নাম শাকিল (১৪)। সে আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আবদুল্লাপুর পূর্বপাড়ার মালু মিয়ার ছেলে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে নিখোঁজ ছিল সে। বাবা মালু মিয়া জানান, শাকিল মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল, যা এই ঘটনার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিজিবি ফকিরমুড়া ক্যাম্পের কমান্ডার নিরাময় চাকমা জানান, আখাউড়া-ত্রিপুরা সীমান্তের ২০২২-৯এস পিলারের কাছে সানমুড়া কাঁটাতারের বেড়ার পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখেই প্রথম বিষয়টি বিএসএফের নজরে আসে। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় ভারতীয় বাহিনীর মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেই সঙ্গে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদ উল ইসলামও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।
এরপর উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে শুরু হয় যোগাযোগ। তবে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে সময় লেগে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাতেই লাশটি নিজেদের হেফাজতে নেয় বিএসএফ।
এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সরাইল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, লাশটি দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, রোববার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ হস্তান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে কিশোরটি কীভাবে সীমান্তের ওপারে পৌঁছাল এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মানসিকভাবে অসুস্থ একজন কিশোরের এভাবে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার ঘটনা সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি ও পারিবারিক সতর্কতার প্রশ্নকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। লাশ হস্তান্তরের পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেই মিলতে পারে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য।





