দোয়ারাবাজারে বৃদ্ধ হত্যা: ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি, প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব

দোয়ারাবাজারে বৃদ্ধ হত্যা: ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি, প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব - Surma Times | Sylhet News

দোয়ারাবাজারে বৃদ্ধ হত্যা: ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি, প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব - Surma Times | Sylhet Newsসুনামগঞ্জ, ১৭ আগস্ট: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মোহাম্মদ আলী (৮৫) নামের এক বৃদ্ধকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৯। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি ও নিহতের পুত্রবধূ হোছনা বেগম, রুহুল আমীন (২২) এবং নজরুল ইসলাম (২০)। রুহুল আমীন দোয়ারাবাজারের হাবিবনগর গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে এবং নজরুল ইসলাম একই গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। হোছনা বেগম সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা।

র‌্যাব-৯-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহত মোহাম্মদ আলী দোয়ারাবাজার থানাধীন সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর ছেলে ইসমাইল মিয়া সৌদি আরবে প্রবাসী। ইসমাইলের স্ত্রী হোছনা বেগম সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরের বাড়িতে বসবাস করতেন।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ আলীর নামে থাকা জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূ বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছিলেন। জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একপর্যায়ে তাঁরা মোহাম্মদ আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

র‌্যাব জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী হোছনা বেগম রুহুল আমীনের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী গত ১৪ আগস্ট রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে রুহুল আমীন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান সোনাপুরে মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে যান।

র‌্যাবের দাবি, হোছনা বেগমের সহযোগিতায় তাঁরা মোহাম্মদ আলীর ঘরে প্রবেশ করেন। পরে তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

এ ঘটনায় নিহতের নাতনি বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

এর ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৯-এর সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৬ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে দোয়ারাবাজার থানার সোনাপুর এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি হোছনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে।

একই দিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে পৃথক অভিযানে দোয়ারাবাজার থানাধীন হাবিবনগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে মামলার এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি রুহুল আমীন ও তিন নম্বর আসামি নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দোয়ারাবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article