সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত চতুর্থ পলাতক আসামিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-১১-এর যৌথ দল। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে কুমিল্লার কোতোয়ালী মডেল থানাধীন বাজগড্ডা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামির নাম জিয়াউর রহমান (৩২)। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার হাবিবনগর এলাকার মৃত চান মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ এবং র্যাব-১১-এর সিপিসি-২, কুমিল্লার একটি যৌথ আভিযানিক দল শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কুমিল্লার কোতোয়ালী মডেল থানাধীন বাজগড্ডা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত চতুর্থ পলাতক আসামি জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী (৮৫) দোয়ারাবাজার থানাধীন সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মামলার পঞ্চম আসামি ইসমাইল মিয়া ভুক্তভোগীর ছেলে এবং প্রথম আসামি হোছনা বেগম তার পুত্রবধূ। পঞ্চম আসামি সৌদি আরবে প্রবাসী থাকায় প্রথম আসামি তার সন্তানদের নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে বসবাস করছিল।
অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগীর নামে থাকা জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য তার ছেলে ও পুত্রবধূ বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছিলেন। এতে ভুক্তভোগী রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে হত্যা করার জন্য প্রথম আসামি দ্বিতীয় আসামি রুহুল আমিনের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করে। ওই চুক্তি মোতাবেক গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে দ্বিতীয় আসামি তৃতীয় আসামি নজরুল ইসলাম ও চতুর্থ আসামি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যায়। তারা প্রথম আসামির সহযোগিতায়ে ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর নাতনি বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ২৪, তারিখ ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ। মামলায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে এই মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে র্যাব-৯ গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবার গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমানকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং এই মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






