পোষ্য সোসাইটির সংবাদ সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ
ঢাকা, ২৮ জুলাই:বাংলাদেশ রেলওয়ের ভয়াবহ ইঞ্জিন সংকট, ৭০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ প্রকল্প বাতিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ৩০টি নতুন লোকোমোটিভ ক্রয় প্রক্রিয়া ও এক্সেল লোড নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক, জনবল সংকট এবং রেলওয়ের সর্বোচ্চ পদ ঘিরে প্রতিযোগিতার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিবিশেষকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়, বরং রেলওয়ের ইঞ্জিন সংকট, প্রশাসনিক বাস্তবতা, ঘন ঘন দুর্ঘটনা ও ইঞ্জিন বিকল হওয়ার চিত্র, জনবল সংকট এবং রেলসেবার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা।
ইঞ্জিন সংকটের চিত্র
সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে মিটারগেজ লোকোমোটিভের ভয়াবহ সংকট বিরাজ করছে। তাদের হিসাবে, প্রতিদিন গড়ে ২৬৮টি ইঞ্জিনের চাহিদা থাকলেও গড়ে মাত্র ১৮০টি ইঞ্জিনের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন পূর্বাঞ্চলে ৩২টি ও পশ্চিমাঞ্চলে ৩৬টি, মোট ৬৮টি ট্রেন বাতিল করতে হচ্ছে। সংগঠনটি জানায়, শুধু গত ডিসেম্বর মাসেই ৫৫টি ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয় ও যাত্রী ভোগান্তির অন্যতম কারণ।
ট্রাফিক বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী পূর্বাঞ্চলে আন্তঃনগর, মেইল, কমিউটার ও মালবাহী ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৮৫টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলেও বাস্তবে সচল অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০ থেকে ৭২টি, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১৫টি লোকোমোটিভের ঘাটতি নিয়ে ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে বলে সংগঠনটি জানায়। সংগঠনের ভাষ্য, গত অর্থবছরের আয়-ব্যয় বিশ্লেষণেও একই চিত্র উঠে এসেছে, যাত্রী খাতে আয় ২৫৬ কোটি টাকা বাড়লেও পণ্য পরিবহনে আয় কমেছে। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বছরে অতিরিক্ত ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা রাজস্ব অর্জন সম্ভব হতো, কিন্তু সংকটের কারণে রেলওয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংগঠনের সতর্কবার্তা, ইঞ্জিন সংকট সমাধান করতে না পারলে আগামী এক বছরের মধ্যে রেলসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।
এই সংকটের জন্য সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (আরএস) ইঞ্জিনের জরুরি যন্ত্রাংশ ক্রয়ে দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতাকে দায়ী করেছে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে এই ধীরগতির পেছনে রেলওয়েকে ব্যর্থ প্রমাণের উদ্দেশ্যে সক্রিয় একটি চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, যদিও সংগঠনটি নিজেই এটিকে নিশ্চিত তথ্য না বলে সন্দেহ বা গুঞ্জন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
৭০ লোকোমোটিভ প্রকল্প বাতিলের বিতর্ক
সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, ৭০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্বাঞ্চলের ইঞ্জিন সংকট অনেকাংশে দূর হতো। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, দরকষাকষিতে ব্যর্থতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায় বলে সংগঠনের অভিযোগ। সংগঠনটি জানায়, অনেকে প্রকল্প পরিচালকসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ জন্য দায়ী মনে করলেও তারা নিজেরা দায় স্বীকার না করে অর্থ মন্ত্রণালয়কে দায়ী করছেন, এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনের হিসাবে, প্রকল্পটি বাতিল না হলে এই লোকোমোটিভ দীর্ঘমেয়াদে অন্তত ২০৬০ সাল পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব হতো, এবং তৎকালীন বিনিময় হারে (প্রতি মার্কিন ডলার প্রায় ৮২ টাকা) বর্তমানের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ কম খরচে ইঞ্জিন সংগ্রহ সম্ভব হতো।
৩০ লোকোমোটিভ ক্রয় প্রক্রিয়া ও এক্সেল লোড বিতর্ক
৭০ লোকোমোটিভ প্রকল্প বাতিলের পর এডিবির অর্থায়নে ৩০টি নতুন মিটারগেজ ইঞ্জিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে সংগঠনটি জানায়। তাদের অভিযোগ, দরপত্রের শর্ত, এক্সেল লোড ও কারিগরি স্পেসিফিকেশন নিয়ে একটি গোষ্ঠী পুরো ক্রয় প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।
সংগঠনের বরাত অনুযায়ী, রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) শাখার ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের একটি সরকারি পত্রে ডিজাইন ক্যালকুলেশনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট রুটে ১৫ টন এক্সেল লোড বিবেচনায় লোকোমোটিভ পরিচালনার কারিগরি সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এরপর ১৩ মে ২০২৬ তারিখে রেলওয়ের মহাপরিচালক এডিবির পর্যবেক্ষণ, স্পেসিফিকেশন যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ ও রেলওয়ের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধিত টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এই নথিতে জীবনচক্রের ব্যয়, এক্সেল লোড, জ্বালানি খরচ, যোগ্যতার মানদণ্ড, ওয়ারেন্টি, স্থানীয় প্রশিক্ষণ, সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার, চুক্তি সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও নগদ প্রবাহের সক্ষমতাসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পুনর্মূল্যায়নের উল্লেখ রয়েছে বলে সংগঠনটি জানায়।
পরবর্তীতে ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে রেলপথ মন্ত্রণালয় নীতিগত অনুমোদন দেয় এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) আইন, ২০২৬ ও পিপিআর, ২০২৫ অনুযায়ী উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও সর্বোত্তম মূল্য নিশ্চিত করে দ্রুত ৩০টি লোকোমোটিভ ক্রয়ের নির্দেশনা দেয়। সংগঠনটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি প্রমাণ করে যে প্রকল্পটি এডিবির পর্যবেক্ষণ, কারিগরি কমিটির সুপারিশ ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ভিত্তিতেই ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়েছে।
তবে সংগঠনটি এ-ও উল্লেখ করে যে, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (আরএস) বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এক্সেল লোড বাড়ানোর চেষ্টার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে নতুন রেললাইন নির্মাণে ব্রডগেজে ২৫ টন ও মিটারগেজে ১৫ টন এক্সেল লোড অনুসরণ করা হলেও টঙ্গী-আখাউড়া, লাকসাম-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-দোহাজারীসহ কিছু পুরোনো সেকশনে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে সংগঠনটি জানায়, যা থেকেই এক্সেল লোড নিয়ে কারিগরি মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে।
লোকোমোটিভের মূল্য প্রসঙ্গে সংগঠনটি জানায়, আগে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল প্রায় ৮২ টাকা, যা বর্তমানে প্রায় ১২৪ টাকা। ফলে তাদের মতে, শুধু মোট মূল্য তুলনা না করে বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক বাজারদর ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
প্রশাসনিক সমস্যা ও জনবল সংকট
সংগঠনটি জানায়, রেলওয়েতে বর্তমানে প্রায় ৪৭ হাজার ২৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও ৮০০-এর বেশি পদ শূন্য রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়োগ বিধিমালা-২০২০-এ বিদ্যমান অসংগতি দীর্ঘদিন ধরে সংশোধনের অপেক্ষায় থাকলেও প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন অনিষ্পন্ন রয়েছে, যার ফলে শূন্যপদ পূরণে বিলম্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, গত পাঁচ বছরে নিয়োগ পাওয়া জনবলের প্রায় ৬০ শতাংশ চাকরি ছেড়ে চলে গেছে, যা তাদের মতে ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফল। নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে বলেও সংগঠনটি জানায়।
এ ছাড়া রেলওয়ে অ্যাক্ট ১৮৯০ বাতিল করে নতুন রেলওয়ে আইন ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়ে সংগঠনটি সন্দেহ প্রকাশ করেছে, এই উদ্যোগ রেলওয়েকে বেসরকারি করার পরিকল্পনার অংশ কি না তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
মহাপরিচালকের পদ নিয়ে বিতর্ক
সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, রেলওয়ের মহাপরিচালকের পদ নিয়েও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তাদের ভাষ্যে, বর্তমান মহাপরিচালক দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তাদের একজন হলেও কিছু কর্মকর্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তারা এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বলেছে, পদোন্নতির প্রতিযোগিতা যেন রেলওয়ের উন্নয়ন ও জনস্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
লাগেজ ভ্যান ক্রয় সংক্রান্ত অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার (মামলা নম্বর ২৫, তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২৫) দ্রুত তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
দাবিনামা
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি সরকারের কাছে আটটি দাবি তুলে ধরে, যার মধ্যে রয়েছে ৩০টি লোকোমোটিভ ক্রয় প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত সম্পন্ন করা, ৭০ লোকোমোটিভ প্রকল্প বাতিলের কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায় নির্ধারণ, ৩০ লোকোমোটিভ ক্রয় নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ দ্রুত সংশোধন, উন্নয়ন প্রকল্পে অযাচিত প্রভাবের তদন্ত, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনসম্মত তদন্তের পাশাপাশি ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে তাদের সুরক্ষা, সর্বোচ্চ পদ ঘিরে প্রতিযোগিতা বন্ধ এবং রেলওয়েকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টার পেছনে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা গোয়েন্দা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা।
সংগঠনের সভাপতির সমাপনী বক্তব্য
সমাপনী বক্তব্যে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি জাতীয় সম্পদ এবং এই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও আধুনিক করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সবার দায়িত্ব। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিস্বার্থ, পদোন্নতির প্রতিযোগিতা বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা যেন রেলসেবাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে এবং সরকারি নথি, তথ্য-উপাত্ত ও আইনের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনই তাদের প্রত্যাশা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেলওয়ে কারিগর পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস কে বারী, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) চট্টগ্রাম মহানগরের সহ-সভাপতি আনোয়ারুল হক হনি এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক হারুন-অর-রশীদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
রেলওয়ের ইঞ্জিন সংকট, প্রকল্প বাতিল এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা অভিযোগগুলো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন খাতের কাঠামোগত সমস্যাকে সামনে এনেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রকল্প বাতিল ও ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে সংগঠনটির অভিযোগগুলো মূলত তাদের নিজস্ব অনুসন্ধান ও ধারণার ভিত্তিতে উত্থাপিত, যা স্বতন্ত্র তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। ইঞ্জিন সংকট দীর্ঘায়িত হলে যাত্রীসেবা, পণ্য পরিবহন ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্টরা।







