চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ভোট নভেম্বরে

অনলাইনে নিজের তথ্য নিজেকে পূরণ করে ভোটার হওয়ার আহ্বান ইসির - Surma Times | Sylhet News

অনলাইনে নিজের তথ্য নিজেকে পূরণ করে ভোটার হওয়ার আহ্বান ইসির - Surma Times | Sylhet Newsঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর: সিলেটসহ সারাদেশে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। ধাপভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে চলতি মাসেই তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সে অনুযায়ী আগামী নভেম্বরের শুরুতে ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হতে পারে।

শুক্রবার নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে, এখন কেবল তফসিল ঘোষণার অপেক্ষা। তিনি বলেন, নীতিগতভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই ভোট শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। চলছে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুতের কাজ। শিগগির প্রকাশ করা হবে আচরণবিধির গেজেটও। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা বিধি ও আইন সংশোধনের কিছু সুপারিশ ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন। সহিংসতামুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনাও রয়েছে কমিশনের। নির্বাচন কমিশনার জানান, কয়টি ধাপে নির্বাচন হবে, কোন ধাপে কত ইউনিয়নে ভোট হবে এবং এর সময়সূচি কেমন হবে, এসব বিষয় নির্ধারণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা শিগগির প্রকাশ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি মাসের মধ্যেই তফসিল চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা এবং নভেম্বরের মধ্যে ভোট সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন রয়েছে, যার অধিকাংশই এখন নির্বাচনের উপযোগী। এর আগে সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ ও ২০২২ সালে, সাত ধাপে।

নির্বাচনী আচরণবিধিতেও এবার বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও কিছু নতুন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যার মধ্যে পোস্টারবিহীন প্রচারণার বিষয়টিও থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

নির্বাচনী প্রস্তুতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৮৮ লাখ এবং প্রায় ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ভোটের সময়সূচি নির্ধারণে বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচিও। যেহেতু নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে, তাই শিক্ষা কার্যক্রমে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে নির্বাচন কমিশন।

অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটার প্রেক্ষাপটে এবার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যদিও নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তবু সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাইছে নির্বাচন কমিশন। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনই কমিশনের মূল লক্ষ্য এবং এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও নাগরিক, সবার সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।

সব প্রস্তুতি যথাসময়ে সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নির্বাচন কমিশনার। দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নে একযোগে এই নির্বাচন আয়োজন একটি বড় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ হলেও, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী তা যথাসময়ে সম্পন্ন হলে দেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জনপ্রতিনিধিত্ব ফিরে আসার পথ সুগম হবে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article