সীমান্তে গোলাগুলির আড়ালে চোরাচালান চক্র? সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ

সিলেটের জাফলং সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও গোলাগুলির ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে সামনে আসছে চোরাচালান সিন্ডিকেটের প্রভাব ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ। মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান এবং এক সাংবাদিকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মিলিয়ে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র।

এর আগে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ পণ্য প্রবেশ এবং প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে স্থানীয় গণমাধ্যম। সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সাংবাদিকের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

সাংবাদিক হিলাল উদ্দিন শিপু তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সংবাদ প্রকাশের পর তাকে ফোন করে এক কর্মকর্তা কঠোর ভাষায় বলেন, “এভাবে আপনি লিখতে পারেন না।” জবাবে তিনি পেশাদারিত্ব বজায় রেখে জানান, সত্য তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ওই কর্মকর্তা পরে নিজের অবস্থান নরম করে সাংবাদিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা বলেন। তবে কিছুক্ষণ পরই একই নম্বর থেকে তাকে কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক করা হয়, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আচরণ ও জবাবদিহিতা নিয়ে।

অন্যদিকে, জাফলং সীমান্তে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চোরাচালানের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং কিছু অসাধু ব্যক্তির ছত্রছায়ায় সীমান্ত এলাকায় অবাধে ভারতীয় পণ্য, বালু এবং অন্যান্য সামগ্রী প্রবেশ করছে। এমনকি অস্ত্র ও মাদক পাচারের অভিযোগও রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই অবৈধ পণ্য পরিবহন চলছে। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

সচেতন মহল মনে করছে, সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং গোলাগুলির ঘটনার পেছনেও চোরাচালান সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকতে পারে, যা গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। পাশাপাশি, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।