সুন্দরবনে বন বিভাগের গুলিতে নিহত জেলে আমিনুর রহমান গাজীর মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয়রা। ক্ষুব্ধ জনতা সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিসে হামলা চালায়। এতে বন বিভাগের অন্তত পাঁচজন বনরক্ষী আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের খুলনায় পাঠানো হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত বনরক্ষীরা হলেন তপন, মেজবাহ, ফারুক, একলাছুর ও ফয়জুর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শত শত মানুষ লাঠি-রড হাতে নিহত জেলে আমিনুরের মরদেহ নিয়ে দুপুরে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিসে চড়াও হয়। তারা বন বিভাগের কর্মীদের খুঁজে খুঁজে মারধর করে এবং অফিসের ভেতরে ভাঙচুর চালায়। অফিস ভবন ও আসবাবপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত বনরক্ষীদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আমিনুর রহমানের মরদেহ বন বিভাগের অফিসের সামনে পড়ে ছিল। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব এবং শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান।
বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, তারা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন, আর অফিস ও ভেতরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। আমিনুরের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি সাতক্ষীরা রেঞ্জে ঘটেনি; এটি খুলনা রেঞ্জের এলাকায় ঘটেছে।
এর আগে সোমবার সকালে সুন্দরবনে বন বিভাগের সদস্যদের গুলিতে জেলে আমিনুর রহমান গাজী (৪৫) নিহত হন। খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের অধীন পটকোষ্টা হেলাবাসী অভয়ারণ্য এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপুর দেড়টার দিকে সহকর্মীরা তার মরদেহ এলাকায় ফেরত আনলে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।



