সিলেটে হকার ইস্যুতে রাজনীতি – কড়া অবস্থান প্রশাসকের

সিলেটে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ ও বিকল্প ব্যবস্থার প্রশ্ন এখন আবার আলোচনায় এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করতে সক্ষম হন, আর এতে আরিফুল হক চৌধুরীও সহযোগিতা করেন।

নির্বাচনের আগে এই উদ্যোগকে ঘিরে সমালোচনা হলেও আরিফুল হক নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন। হকাররা ফুটপাত ছেড়ে লালদিঘিরপার মার্কেটে ফিরে যান, এবং সেখানে কিছু সুবিধাও বাড়ানো হয়। এরপর পুলিশও সড়কে হকার বসতে দেয়নি।

তবে সম্প্রতি হকাররা আবার সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। তাদের দাবি, অন্তত সন্ধ্যা ৫টার পর ফুটপাতে বসে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু শহরবাসী, পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী এ দাবির বিরোধিতা করছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হুমকি-ধামকি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। তার ভাষায়, হকারদের আর ফুটপাত বা রাস্তায় বসতে দেওয়া হবে না, এবং যত্রতত্র জায়গা দখল করে ব্যবসা করার সুযোগও সিটি করপোরেশন আর দেবে না।

ঈদের আগে বিকেল ৫টার পর নগরের ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ চেয়ে রোববার সিটি করপোরেশনের সামনে বিক্ষোভ করেন হকাররা। পরে সেই আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অটল থাকবে।

তিনি বলেন, হকারদের ব্যবসার জন্য নির্ধারিত জায়গা দেওয়া হয়েছে, সেখানেই তাদের বসতে হবে। রাস্তা বা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানোর দাবি তিনি গ্রহণ করবেন না। যারা আক্রমণাত্মক ভাষায় হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বা সিটি করপোরেশনকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এতে কাজ হবে না।”

প্রশাসক আরও জানান, প্রতি ঈদের আগেই ফুটপাতে ব্যবসা করা হকাররা এমন দাবি নিয়ে আসে। গতবারও তারা তিন দিনের জন্য মানবিক বিবেচনায় সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে প্রতিবার এ ধরনের ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। সুন্দর নগর গড়তে হলে ফুটপাত পরিষ্কার রাখতে হবে, নইলে মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়। পাশাপাশি হকারদের কারণে মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে রোববার দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটকের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শতাধিক হকার। তাদের হাতে ছিল ভাতের থালা ও বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড। তারা দাবি জানান, সারাদিন না পারলেও অন্তত বিকেল ৫টার পর ফুটপাতে বসে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দিতে হবে।

হকারদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ফুটপাতের ব্যবসাই অনেক পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। তারা আরও বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান চালালে পরিবার নিয়ে তারা চরম সংকটে পড়বেন। এ সময় অভিযান চলাকালে পুলিশি নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং মালামাল জব্দের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানান তারা।

সব মিলিয়ে সিলেটে ফুটপাত দখল, হকার উচ্ছেদ ও বিকল্প ব্যবস্থার প্রশ্নে প্রশাসন ও হকারদের অবস্থান এখন আরও স্পষ্টভাবে মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।