সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ভুয়া জন্মসনদ কেলেঙ্কারি: ব্রিটিশ তদন্তে ফাঁস ১১টি জাল নিবন্ধন

সিলেট সিটি কর্পোরেশন (এসসিসি) জোন-০৬ থেকে ইস্যু করা ১১টি ভুয়া জন্মসনদ নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতি ফাঁস হয়েছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের তদন্তে নথি জালিয়াতি ধরা পড়ার পর স্থানীয় সরকার বিভাগ, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় এবং এসসিসি প্রশাসনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, আর ঘটনাটি বাংলাদেশে পাসপোর্ট ও ভিসা যাচাইব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে ।

তদন্তে দেখা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারের ডিজিটাল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যব্যবস্থা বিডিআরআইএসের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে এসব সনদ তৈরি করেছে । ব্রিটিশ হাইকমিশনের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনায় জন্মসনদের সঙ্গে জমা দেওয়া এনআইডি, মায়ের পাসপোর্ট ও হাতে লেখা জন্মসনদের কপি পর্যন্ত জাল পাওয়া গেছে, এবং প্রতিটি আবেদনে “সিলেট সিটি কর্পোরেশন” জন্মস্থান হিসেবে দেখানো হলেও তা সমর্থনের মতো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মেলেনি ।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ২৭ এপ্রিলের চিঠিতে এসসিসি জোন-০৬-এর দুই কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে, আর সেই চিঠিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ২১(১) ধারা লঙ্ঘন এবং গুরুতর অবহেলার অভিযোগও আনা হয় । চিঠির ভিত্তিতে নজরুল ইসলামের নিবন্ধন ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে জন্মসনদ নেওয়া ১১ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা শুরুর কথা বলা হয়েছে ।

এসসিসি পরে ৭ মে একটি “অত্যন্ত জরুরি” নোটিশে ওই ১১টি জন্মনিবন্ধন বাতিল করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে । বাতিল হওয়া সনদের তালিকায় বিস্বনাথ, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকা, সুনামগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও ছাতকের একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে ।

এসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদ হোসেন জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিভিন্ন সময়ে ভুয়া নথি জমা দিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জন্মনিবন্ধন নিয়েছিল, আর বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো বাতিল করা হয় । তিনি আরও বলেন, জন্মনিবন্ধনের সময় এনআইডি যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় আবেদনকারীদের দেওয়া নথির ওপর ভিত্তি করেই সনদ ইস্যু করা হয়েছিল । (খবর দৈনিক বৃহত্তর সিলেটের মানচিত্র)

এ ঘটনাকে ঘিরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মসনদ বিদেশি দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হওয়ায় এ ধরনের জালিয়াতি বাংলাদেশের পাসপোর্ট, ভিসা যাচাই এবং জাতীয় তথ্যব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে । প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, পুরো ঘটনার বিস্তৃত তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে এমন জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও চলছে ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।