তনু হত্যা মামলার আসামি শাহীন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তদন্তে নতুন প্রশ্ন

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। মামলার তদন্তে নাম উঠে আসা সাবেক সেনাসদস্য শাহীন আলম দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত হওয়ার আভাস পাওয়া মাত্রই তিনি কুয়েতে পালিয়ে যান।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাহীন আলম কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আগাম অবসর নিয়ে নিজ গ্রাম বুড়িচং উপজেলার গোবিন্দপুরে “এম এস সুমাইয়া অ্যাগ্রো” নামে একটি গরুর খামার ও দোকান গড়ে তোলেন। দেশ ছাড়ার পর তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে সেটি ভাড়া দেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে তিনজন সাবেক সেনাসদস্যের তালিকায় শাহীন আলমের নাম তৃতীয় হিসেবে উল্লেখ করেন। আদালত তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করা হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, শাহীন আলম ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ এপ্রিল তার অবস্থান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় শনাক্ত করা হয়। এরপর তার অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে করে তার দেশত্যাগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এখনো শাহীন আলমের অবস্থান শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

এদিকে, ২০১৬ সালে তনু হত্যার পর ব্যাপক জনমতের চাপের মুখে সিআইডি তদন্ত শুরু করলেও শুরু থেকেই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তনুর বাবা একাধিকবার যাদের নাম সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাদের অনেকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, প্রকৃত সন্দেহভাজনদের আড়াল করে ভিন্ন খাতে তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। তার দাবি, “আমার মেয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে খুন হয়েছে, অথচ বাইরে থেকে লোকজন ধরে এনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে।”

তৎকালীন সময়ে অন্তত ১৩ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। তবে ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংগ্রহ করা কারও ডিএনএ-ই ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামতের সঙ্গে মেলেনি। এই ফলাফল নতুন করে তদন্তের সীমাবদ্ধতা এবং ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, মূল সন্দেহভাজনদের আওতায় না এনে দীর্ঘদিন তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় আসামির দেশত্যাগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় তনু হত্যা মামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া এবং পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।