ঢাকা, ১৬ আগস্ট: ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকির নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে সিলেটসহ দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে ১৪ দফা নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগের উপসচিব সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সম্প্রতি এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারক করা প্রয়োজন। সেবার মানোন্নয়ন, নাগরিক হয়রানি কমানো এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই জেলা প্রশাসকদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান, নকশা ও রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
নাগরিকদের সঙ্গে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ জনবান্ধব কি না, সেটিও মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন ভূমিসেবা, ই-নামজারি ও ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনা করতে হবে।
## হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধে নজরদারি
ভূমিসেবা নিতে গিয়ে নাগরিকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিয়মের শিকার না হন, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভূমি অফিসে সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ফি, প্রক্রিয়া ও সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এতে নাগরিকরা নির্ধারিত সেবা সম্পর্কে সহজে জানতে পারবেন এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা অপ্রয়োজনীয় হয়রানির সুযোগ কমবে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে ‘ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম’ কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
## অফিস ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব
ভূমি অফিসের পরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজনীয় নথি সঠিকভাবে সংরক্ষণ, নাগরিক সনদ ও তথ্য বোর্ড হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেবার মানদণ্ড দৃশ্যমান রাখা এবং অফিসে থাকা তথ্যপ্রযুক্তির সরঞ্জাম যথাযথভাবে ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ভূমি আইন, বিধি ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করতে ‘ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র’-এর সংখ্যা বাড়ানো এবং এসব কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়মিত পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে ভূমি অফিসের অনিয়ম চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা সরকারি নির্দেশনা অমান্যের ঘটনা পাওয়া গেলে দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
জেলা প্রশাসকদের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ, অগ্রগতি ও গৃহীত ব্যবস্থা উল্লেখ করে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ভূমিসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। নাগরিকদের হয়রানি কমিয়ে দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করে জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলাই এ নির্দেশনার মূল লক্ষ্য। [bssnews](https://www.bssnews.net/bangla/national/333105)







