সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার, ২১ জুলাই: র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘনের দায়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পৃথক দুটি অভিযানে নকল পণ্য বিক্রয়, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ রাখা এবং পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না রাখার মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অভিযান
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে র্যাব-৯, সিপিসি-২ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজারের একটি যৌথ আভিযানিক দল সকাল ১১টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত পৌরসভা বাজারে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শিত না রাখা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ রাখা এবং নকল পণ্য রাখার দায়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৩৮, ৪৫ ও ৫১ ধারায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জসিম এন্টার প্রাইজের মালিক জসিমকে ৫,০০০ টাকা, সানজার ফার্মার মালিক কাজী আব্দুল হান্নানকে ৩,০০০ টাকা এবং মেসার্স বিজয় স্টোরের মালিক বিজয় করকে ১৫,০০০ টাকা জরিমানা। এতে মোট ২৩,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অভিযান
অপরদিকে, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জের একটি যৌথ দল দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রানীগঞ্জ বাজারে অভিযান চালায়। এ সময় নকল পণ্য বিক্রয় এবং বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৫, ৪৬ ও ৫১ ধারায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।
মেসার্স মাহদী ট্রেডার্সের মালিককে ৫০,০০০ টাকা এবং মেসার্স কলি স্টোরের মালিককে ২০,০০০ টাকা জরিমানা করে মোট ৭০,০০০ টাকা আদায় করা হয়।
আইনি ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার, খাদ্য পণ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্য মিশ্রণ না দেওয়া, অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ না করা এবং প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ করার বিধান রয়েছে। এসব আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারাদণ্ড, আর্থিক জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং জনগণের কাছে ভেজালমুক্ত খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযানের পাশাপাশি জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।






