মৌলভীবাজার, ১৪ সেপ্টেম্বর: ব্যাটারিচালিত টমটমসহ ধলাই নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর প্রীতম এরিক (পিতু) নামে এক চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুর ২টার দিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ রেলওয়ে ব্রিজসংলগ্ন ধলাই নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত প্রীতম এরিক (৪৫) কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও বটতলা এলাকার প্রয়াত টমাস এরিকের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। পেশায় ব্যাটারিচালিত টমটমের চালক প্রীতম দুই সন্তানের জনক ছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এলাকার সর্বমহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কমলগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ কুমড়াকাপন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধলাই নদীতে পড়ে যায় প্রীতমের চালিত টমটমটি। এ সময় নদীতে তলিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল। তাঁরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালান। এই অভিযানে নদী থেকে টমটমটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চালকের কোনো সন্ধান তখন পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ প্রায় ৩০ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর সোমবার দুপুরে অবশেষে মেলে প্রীতমের মরদেহ। নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। এরপর কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, নিখোঁজ চালককে উদ্ধারে স্থানীয়দের পাশাপাশি পুলিশ ও ডুবুরি দল অভিযান চালিয়েছিল, তবে তখন তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার দুপুরে স্থানীয়রা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন, এরপর পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তিনি জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে।
এই দুর্ঘটনা আরও একবার তুলে ধরেছে ধলাই নদীর পাড়ে চলাচলকারী যানবাহনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির চিত্র। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, নদীতীরবর্তী সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হলে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানির ঘটনা আরও ঘটতে পারে। দুই সন্তানের বাবা প্রীতম এরিকের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়, এমনটাই বলছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।





