সিলেটে সাংবাদিকের রক্ত ঝরিয়ে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক, রোগী ভোগান্তি

সিলেটে সাংবাদিকের রক্ত ঝরিয়ে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক, রোগী ভোগান্তি - Surma Times | Sylhet News

দুই সাংবাদিকের রক্ত ঝরিয়ে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক, রোগী ভোগান্তি - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ২৯ অক্টোবর: সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলায় আহত হয়েছেন দুই সাংবাদিক। আহতরা হলেন দৈনিক শ্যামল সিলেট পত্রিকার ফটো সাংবাদিক রেজা রুবেল ও সিলেটভিউ২৪ ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার নিবেন্দু তালুকদার। দুজনই মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং আঘাতের স্থানে একাধিক সেলাই লেগেছে।

বুধবার দিনগত রাত পৌনে ১০টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় অপারেশন থিয়েটারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপর অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে আরেক রোগির স্বজনদের বেধড়ক পেটানো হয়। এই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা রেজা রুবেল ও নিবেন্দু তালুকদারের ওপর হামলা করেন। এ সময় স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে তাদের মাথায় আঘাত করা হয়। আঘাতের পর তারা রক্তাক্ত জখম হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

গুরুতর অবস্থায় তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে চাইলেও ভর্তি দেওয়া হয়নি এবং আহত দুই সাংবাদিকের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা লাঠিসোটা হাতে হাসপাতাল অভ্যন্তর ও ফটকে অবস্থান নেন। সে সময় রোগীর স্বজনদের কয়েকজনকেও ধরে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ পাওয়া যায়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকে চিকিৎসা না পেয়ে রোগী নিয়ে হাসপাতাল ছাড়তে দেখা যায়। কর্মবিরতি চলাকালে হাসপাতাল চত্বরে তিনজন রোগীর মৃত্যুর গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে, তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গুরুতর রোগী নিয়ে স্বজনদের অনেককে আর্তনাদ ও কান্না করতে দেখা যায়।

এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আবু জাফর মো. খালেদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. বদরুল আলম বলেন, আমরা ঘটনাটি জেনেছি। পরিস্থিতি নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম (বিপিএম) বলেন, সাংবাদিক আক্রান্তের ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটা সত্য যে সাংবাদিকরা সেখানে মারামারি করতে যাননি, তারা কর্তব্যকাজে গেছেন। তাদের ওপর হামলা করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার গভীর রাতে সিলেট নগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকরা। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নোবেল এবং পরিচালনা করেন মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মাসুদ আহমদ রণি।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) এর সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হোসেন এবং বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিদ হোসেন।

বক্তারা বলেন, দুই সহকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরেছে এবং আঘাতের স্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়। এসব ঘটনার অবসান হওয়া প্রয়োজন। সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়বে।

তারা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি ঘোষণা দেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটের সব সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা একসঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন। কর্মসূচির ডাক এলে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণের অপেক্ষা না করে সহকর্মীদের নিয়ে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান তাঁরা।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, হাসপাতালে অনেক রোগী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অপরাধ করেও উল্টো চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করেন। তারা রোগীদের জিম্মি করে লাঠি হাতে হাসপাতালের ফটকে অবস্থান নেন। এতে রোগী ও তাদের স্বজনরা ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এটা চিকিৎসা পেশার সঙ্গে বেমানান।

বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকরা মানুষের ভোগান্তি ও অনিয়মের তথ্য তুলে ধরতে সংবাদ সংগ্রহ করেন। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের ওপর হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনারও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোনোটিই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article