সুনামগঞ্জ: একই দিনে জেলার দুই প্রান্ত থেকে উদ্ধার হলো দুটি মরদেহ। সদর উপজেলায় ডোবা থেকে পাওয়া গেছে এক বৃদ্ধার লাশ, আর শান্তিগঞ্জ উপজেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক যুবকের মরদেহ। দুটি ঘটনাতেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
রোববার সকালে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ধলাইড়পাড়ে ঘটে প্রথম ঘটনাটি। এরপর দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ভিমখালী ইউনিয়নের কুতুবপুর কৃষ্ণতলা এলাকায় পাওয়া যায় দ্বিতীয় মরদেহটি। ঘটনা দুটি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
নিহতদের মধ্যে বৃদ্ধা খাইরুন নেছা (৬৫) দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মনফর আলীর স্ত্রী। অন্যদিকে যুবক সুমন দত্ত (৩৩) জামালগঞ্জ উপজেলার ভিমখালী ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের প্রয়াত গুরুসদয় দত্তের ছেলে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. রতন শেখ জানান, সকালে ধলাইপাড়ের উত্তরে একটি স্কুলের পাশের ডোবায় এক নারীর লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে পাঠায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে, ময়নাতদন্তের জন্য। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই লাশটি উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিচয় জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে পুলিশ, আর সেই ছবি দেখেই পরবর্তীতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলিউল্লাহ জানান, শুক্রবার রাত থেকেই নিখোঁজ ছিলেন সুমন দত্ত। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর সন্ধান না পেয়ে স্বজনরা বিষয়টি অবগত করেন জামালগঞ্জ থানা পুলিশকে। এরপর রোববার সকালে কুতুবপুর কৃষ্ণতলার পাশের খালে সুমনের লাশ ভাসতে দেখেন স্বজনরাই, খবর দেন পুলিশকে। দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বিলাপ করছেন সুমনের মা সরস্বতি দত্ত। ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। ওসি অলিউল্লাহ বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি স্বজনরা।
দুটি ঘটনাতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য। এক দিনে দুটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা জেলাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে, পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে ভাবনার জায়গা তৈরি করেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।





