ঢাকা, ৮ জুলাই: মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের টেকসই জীবিকা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত উইনরকের ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।
এ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিরা ‘বাংলালিংক পাওয়ার’ অ্যাপ ব্যবহার করে মোবাইল রিচার্জসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা প্রদান করে আয়ের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তারা নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করবেন।
সম্প্রতি রাজধানীর বাংলালিংকের প্রধান কার্যালয় টাইগার্স ডেনে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। বাংলালিংকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ডিরেক্টর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ‘আশ্বাস’ প্রকল্পের পরিচালক দীপ্তা রক্ষিত।
মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, “উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ‘বাংলালিংক পাওয়ার’ মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে টেকসই আয়ের সুযোগ তৈরি করবে।”
‘বাংলালিংক পাওয়ার’ বাংলালিংকের একটি সামাজিক বিতরণ প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে স্মার্টফোন ব্যবহার করে মোবাইল রিচার্জ বিক্রি করে আয় করা যায়। কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই তরুণ, নারী, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এতে যুক্ত হতে পারেন।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, “মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে উইনরকের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এই অংশীদারিত্ব জিএসএমএ’র ‘কানেক্টেড উইমেন’ উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
উইনরক ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ দীপ্তা রক্ষিত বলেন, “ডিজিটাল দক্ষতা মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে সক্ষম করে তুলবে। এ প্রকল্পের আওতায় মানব পাচারপ্রবণ ১০টি জেলায় নারী-পুরুষদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।”
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলালিংকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উইনরকের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মাসনুন হক।






