পঞ্চগড়, ১ জুলাই ২০২৬: আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, কেক কাটা ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর মৌসুমী ও জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের পর শুনানি শেষে বিচারক মাহবুব আলী মুয়াদ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মেজর মৌসুমী পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। নিলুফার ইয়াসমিন জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি। মামলায় নাঈমুজ্জামান মুক্তাকে প্রথম এবং মেজর মৌসুমীকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে। মোট ১১০ থেকে ১২০ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সারোয়ার বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।” তিনি আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী লড়াই অব্যাহত থাকবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম কাজল জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম গোপনে চালানোর অংশ হিসেবে পঞ্চগড় সদরের একটি খামারবাড়িতে দলের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। সেখানে কেক কাটা, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা যায়, গত বছরের ২৩ জুন নাঈমুজ্জামান মুক্তার খামারবাড়িতে এ অনুষ্ঠান হয়। পরদিন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গত ২০ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানার এসআই মানিক মামলা দায়ের করেন।
৬ সপ্তাহের জামিন শেষে সোমবার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠান। মামলার প্রধান আসামি নাঈমুজ্জামান মুক্তা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে।






