সিলেট, ২৭ সেপ্টেম্বর: সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে আরও দুটি শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। মৃত দুই শিশুই সিলেটের বাসিন্দা, যাদের একজনের বয়স মাত্র ১০ মাস এবং অন্যজনের বয়স ৯ মাস।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের হাম ও রুবেলা রোগীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের রোগেই এই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৮ জনে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে মারা গেছেন ১৬৮ জন, আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।
তবে স্বস্তির একটি দিকও রয়েছে প্রতিবেদনে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। যদিও এই সময়ে ১৬৮ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ৭৫ জন ভর্তি হয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, আর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৩ জন। এছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন সন্দেহজনক রোগী।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ৬৪১ জন সন্দেহজনক রোগী। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে ভর্তি আছেন ২৮৫ জন। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৭৭ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৫০ জন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২৯ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের সামগ্রিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পুরো বছরের চিত্রও। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৫৩ জন। জেলাভিত্তিক এই সংখ্যায় সিলেটে ৩৮৫ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হবিগঞ্জের ১৫৩ জনের মধ্যে দুজন আবার রুবেলা রোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
মৃত্যুর জেলাভিত্তিক হিসাবেও শীর্ষে রয়েছে সিলেট। জেলাটিতে সন্দেহজনক হামে ৬৭ জন এবং নিশ্চিত হামে ৪ জনসহ মোট মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের। এরপরই রয়েছে সুনামগঞ্জ, যেখানে মোট মৃত্যু ৬৬ জন, এর মধ্যে সন্দেহজনক ৬৫ ও নিশ্চিত ১ জন। হবিগঞ্জে মোট মৃত্যু ২৬ জন, যার মধ্যে সন্দেহজনক ২২ ও নিশ্চিত ৪ জন। আর মৌলভীবাজারে মোট মৃত্যু ১৫ জন, এর মধ্যে সন্দেহজনক ১৪ ও নিশ্চিত ১ জন।
সংখ্যাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে, সিলেট বিভাগে হাম এখনো একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিরাজ করছে। শিশুমৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা এবং প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে পরিস্থিতি। আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো না মেলায়, আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।




