ঢাকা: শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কবি ও অভিনেতা রিফাত চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের পাঠানো ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেননি। শনিবার জায়েদ খানের পাঠানো এই অর্থ রিফাত চৌধুরীর কাছে পৌঁছে দিতে গেলে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তা নিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। রিফাত চৌধুরীর চিকিৎসার জন্য এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠান জায়েদ খান। তবে সেই অর্থ রিফাতের হাতে পৌঁছানোর আগেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে যায় জায়েদ খানের আর্থিক সহায়তার খবর। বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করেন রিফাত।
শুক্রবার রাতে রিফাত চৌধুরী জানান, জায়েদ খান একজনের মাধ্যমে তাঁর জন্য কিছু অর্থ পাঠিয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে সেই অর্থ তখনো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি, এমনকি বিষয়টি নিয়ে তাঁকে নিশ্চিতভাবে কিছু জানানোও হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিফাত জানিয়েছিলেন, জায়েদ খান তাঁকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা করেননি। পরবর্তীতে জানা যায়, প্রকৃতপক্ষে জায়েদ খান তাঁর চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। শনিবার সেই অর্থ তাঁর কাছে পৌঁছে দিতে যাওয়া হলেও রিফাত তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে রিফাত চৌধুরীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায় বেশ কিছুদিন ধরে চলা জটিলতা। গত ১৪ সেপ্টেম্বর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পা ও কোমরের সমস্যার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অনিদ্রা ও অতিরিক্ত দুর্বলতায় ভুগছেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তির পর শুরুতে বেড না পাওয়ায় কয়েক দিন তাঁকে মেঝেতে থাকতে হয়, যা নিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অনেকে। পরে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অবশেষে তাঁকে একটি কেবিনে স্থানান্তর করা হয়।
আশির দশক থেকে কবিতা ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন রিফাত চৌধুরী। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আলিঙ্গনের নাম’। চার দশকের দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তাঁর মোট ২৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুধু কবিতা নয়, অভিনয়েও রয়েছে তাঁর সুপরিচিতি। ‘সিক্সটি নাইন’ নাটকের ‘জাতীয় কাকা’ চরিত্রসহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়া বড় পর্দায়ও তাঁর উপস্থিতি লক্ষণীয়, ‘ব্যাচেলর’ ও ‘মেহেরজান’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন এই বহুমুখী প্রতিভাবান কবি ও অভিনেতা।
আর্থিক সহায়তা প্রত্যাখ্যানের এই ঘটনা রিফাত চৌধুরীর আত্মমর্যাদাবোধ ও ব্যক্তিগত অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি প্রশ্ন তুলেছে সংস্কৃতি অঙ্গনে সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া ও গণমাধ্যমে তা প্রকাশের ধরন নিয়েও। একজন গুণী শিল্পীর অসুস্থতার সংবাদ যেভাবে আর্থিক সহায়তার প্রচারণায় রূপ নিতে পারে, তা নিয়ে সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে এই ঘটনা।






