সারা খানের স্বীকারোক্তি, ‘বাবার তদবির ছাড়াই সব লড়াই নিজেই করেছি’

সারা খানের স্বীকারোক্তি, ‘বাবার তদবির ছাড়াই সব লড়াই নিজেই করেছি’ - Surma Times | Sylhet News

সারা খানের স্বীকারোক্তি, ‘বাবার তদবির ছাড়াই সব লড়াই নিজেই করেছি’ - Surma Times | Sylhet News

নতুন দিল্লি, ২৮ অক্টোবর: বলিউডে স্বজনপ্রীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী সারা আলী খান। তিনি স্বীকার করেছেন, তারকা পরিবারের সন্তান হওয়ায় ক্যারিয়ারের শুরুতে কিছু সুবিধা তিনি পেয়েছেন। তবে একই সঙ্গে এ দাবিও তুলেছেন, তার সিনেমায় সুযোগ পাওয়ার জন্য বাবা সাইফ আলী খান কখনো নির্মাতাদের কাছে তদবির করেননি, এমনকি চুক্তি নিয়েও দরকষাকষি করেননি।

চলতি বছর মুদাসসার আজিজের রোমান্টিক কমেডি ‘পতি পত্নী অউর ওহ দো’ এবং আকাশ কৌশিকের স্পাই কমেডি ‘উড়তা তীর’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন সারা। দুটি সিনেমাতেই তার সহশিল্পী আয়ুষ্মান খুরানা। অভিনয় জীবনের আট বছর পেরিয়ে এসেও স্বজনপ্রীতির সুবিধা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে সাইফ আলী খান ও অমৃতা সিংয়ের এ মেয়েকে। এবার সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করার পাশাপাশি ক্যারিয়ারে নিজের পরিশ্রমের মূল্যায়নও দাবি করেছেন তিনি।

সম্প্রতি ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সারা বলেন, তারকা পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে তার সামনে কিছু দরজা খুলেছে, এ কথা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। অভিনেত্রীর ভাষ্য, আমি এতটা সরল বা বাস্তবতা সম্পর্কে এতটা অজ্ঞ নই যে স্বীকার করব না, এ পরিচয় আমার জন্য অনেক দরজা খুলে দিয়েছে। এটি আমাকে সুযোগ দিয়েছে। পরিচিতি ও খ্যাতি এনে দিয়েছে, এমনকি অভিনেত্রী হওয়ার আগেও হয়তো।

সিনেমায় অভিষেকের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন সারা। অভিষেক কাপুর পরিচালিত ‘কেদারনাথ’ মুক্তির চার মাসেরও কম সময় আগে ইনস্টাগ্রামে যুক্ত হন তিনি। এরপর মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তার অনুসারীর সংখ্যা দুই লাখ ৪৬ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

তবে এ সুবিধার পাশাপাশি স্বজনপ্রীতি নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন সারা। তিনি বলেন, তা সত্ত্বেও কখনো কখনো আমার মনে হয়, আমাদের কাছে প্রত্যাশার মাত্রাটা অনেক বেশি। মানুষের কাছে স্বজনপ্রীতি এখন শুধু একটি নেতিবাচক শব্দে পরিণত হয়েছে। আমার যেটা ভালো লাগে না, তা হলো, এটি একজনের নিজের পরিশ্রমকে আড়াল করে দেয়।

শুধু নিজের নয়, একই ধরনের সমালোচনার মুখে থাকা সমসাময়িক অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর ও অনন্যা পান্ডের পক্ষেও কথা বলেছেন তিনি। জাহ্নবী প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবী ও প্রযোজক বনি কাপুরের মেয়ে। অন্যদিকে অনন্যার বাবা অভিনেতা চাঙ্কি পান্ডে। সারা বলেন, জাহ্নবী, অনন্যা কিংবা আমি, আমরা কে কার ঘরে জন্ম নেব, তা নিজেরা বেছে নিইনি। আমরা শুধু সৌভাগ্যবান ছিলাম। যে বিষয়টি আমাদের দোষ নয়, তার জন্য আমাদের শাস্তি পাওয়াটা ন্যায্য বলে মনে করি না।

অভিষেকের পর আট বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার পরও বারবার এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হওয়াটা প্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সারা। তিনি বলেন, আমরা কি বাড়তি সুবিধা পাই? হ্যাঁ, অবশ্যই পাই। এমন একটি অভিষেকের সুযোগ আমাদের দেওয়া হয়েছিল, যেটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনেকেরই থাকে। কিন্তু ক্যারিয়ারের আট বছর পার হওয়ার পরও যদি আমাকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে যেতে হয়, তাহলে এর দায়ভার শুধু আমার ওপর থাকা উচিত বলে মনে করি না।

এরপর নিজের পারিবারিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। সাইফ আলী খান ও অমৃতা সিং ২০০৪ সালে আলাদা হয়ে যান। তখন সারার বয়স ছিল মাত্র নয় বছর। এরপর মূলত মা অমৃতা সিংয়ের সঙ্গেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। সারা বলেন, আমি একক মায়ের সঙ্গে থাকি। আমার এমন কোনো বাবা ছিলেন না, যিনি বিভিন্ন অফিসে গিয়ে আমার চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি করেছেন কিংবা আমাকে তাদের সিনেমায় নেওয়ার জন্য মানুষের কাছে অনুরোধ করেছেন। ‘কেদারনাথ’ নিয়ে যখন সমস্যা হয়েছিল, তখন আমি নিজেই সেটি সামলাচ্ছিলাম। আমার সঙ্গে কেউ ছিল না। বিষয়টি দুই দিক থেকেই প্রভাব ফেলে। কারণ ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোনো গডফাদারই ছিল না।

২০১৮ সালে ‘কেদারনাথ’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় সারার। সে সময় সাইফ আলী খানও বলিউডের একজন প্রতিষ্ঠিত তারকা ছিলেন। তবে তত দিনে তিনি নিজের জীবনে এগিয়ে গেছেন এবং অভিনেত্রী কারিনা কাপুরকে বিয়ে করেছেন। অন্যদিকে অমৃতা সিং আশির দশক ও নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন। সারার জন্মের সময় অভিনয় থেকে বিরতি নেন তিনি। ১৯৯৪ সালে অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর আট বছর বাদে আবার ফিরলেও নিয়মিত সিনেমায় তাকে দেখা যায়নি।

‘কেদারনাথ’ নির্মাণের সময় সিনেমাটির শুটিংয়ে বিলম্ব হওয়ায় সারা আরেকটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন। এ ঘটনায় ‘কেদারনাথ’ এর নির্মাতারা তার বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণ মামলা করেন। পরে বিষয়টি আদালতের বাইরে মীমাংসা হয়। পরিচালক রোহিত শেঠি তার পুলিশি অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘সিম্বা’ থেকে সারাকে সময় বের করে দেন, যাতে তিনি ‘কেদারনাথ’ এর শুটিং শেষ করতে পারেন। তবে এ বিরোধ মেটানোর পেছনে বাবা সাইফ আলী খানের কোনো ভূমিকা ছিল, এমন কিছু প্রতিবেদনের বিপরীতে সারা স্পষ্ট করেছেন, বিষয়টি তিনি নিজেই সামলেছিলেন।

ক্যারিয়ারের শুরুতে তারকা পরিবারের পরিচিতি সুবিধা এনে দিলেও সব পরিস্থিতিতে বাবার সহায়তা পাননি বলেই দাবি তার। স্বজনপ্রীতি বিতর্কে এ স্বীকারোক্তি বলিউডের তারকা সন্তানদের অবস্থান নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article