জাদুকাটায় যান্ত্রিক সেইভে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, মেশিনপ্রতি ২৫০০ টাকা চাঁদার অভিযোগ

জাদুকাটায় যান্ত্রিক সেইভে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, মেশিনপ্রতি ২৫০০ টাকা চাঁদার অভিযোগ - Surma Times | Sylhet News

জাদুকাটায় যান্ত্রিক সেইভে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, মেশিনপ্রতি ২৫০০ টাকা চাঁদার অভিযোগ - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ২৮ অক্টোবর: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্ত নদী জাদুকাটার পূর্ব পাড়ে কথিত ইজারা চুক্তিতে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের শর্ত থাকলেও বাস্তবে ইঞ্জিনচালিত যান্ত্রিক সেইভ মেশিন দিয়ে খনিজ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ কার্যক্রমের নেপথ্যে ইজারাদার ও প্রশাসনের একটি অংশের গোপন সমঝোতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর নদীর পূর্ব পাড়ে গড়ে ২১২ থেকে ২২০ সেট সেইভ মেশিন দিয়ে খনিজ বালু উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিটি সেইভ মেশিনের বিপরীতে একাধিক সোর্স নিয়োগ করে আড়াই হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ টহল দল নিয়ে নদীর পূর্ব তীরে যান। সেখানে সেইভ মেশিন আটকের কার্যক্রমের আড়ালে চাঁদা আদায়কারী সোর্সদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় কাটান তিনি। এমন অভিযোগের তির বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই হোসাইন আরাফাতের দিকে। চাঁদা আদায়ের বিষয়টিতে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই হোসাইন আরাফাত বলেন, আসলে আমার ডিউটির কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। আমি নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার জাদুকাটার পূর্ব তীরে গিয়েছি। কিছু সময় সেখানে ছিলাম।

সেইভ মেশিনে বালু উত্তোলনের বিপরীতে সোর্সদের দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদকের ভাষ্য।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নদীর পশ্চিম তীরের ঘাগটিয়া এলাকার এখলাছের ছেলে রুবেল ও তাঁর চক্রকে তদন্ত কেন্দ্রে যোগদানের পর থেকে রাতের আঁধারে নদীর পাড় ও পুকুর খুঁড়ে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, এ সখ্যতার কারণে রুবেলের সহোদর ভাই মোশাহিদ হোসেন রানু ওরফে তক্ষক প্রতারক রানু সহ একাধিক মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর আগাম তথ্য ফাঁস করে তা ব্যর্থ করে দেন ওই এসআই হোসাইন আরাফাত।

জাদুকাটা নদী সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে কঠোর নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article