স্টকহোম, ১২ আগস্ট: পানিতে পড়ে যাওয়া ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের জীবন দিলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের প্রবাসী বাংলাদেশি বাবুল। সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শেষ পর্যন্ত আর ঘরে ফেরা হলো না তার।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের দক্ষিণাঞ্চলের হোকারেংসবাডেট এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
সুইডিশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাবুল সন্তানদের নিয়ে একটি লেকের পাশের ফুটব্রিজে ছিলেন। শিশুরা তখন সেখানে খেলছিল। একপর্যায়ে তার এক ছেলে হঠাৎ পানিতে পড়ে যায়।
ছেলেকে পানিতে পড়তে দেখে মুহূর্তের মধ্যেই তাকে উদ্ধারে ঝাঁপ দেন বাবুল। শিশুটিকে পানি থেকে তোলার চেষ্টার মধ্যেই একপর্যায়ে নিজেই বিপদে পড়ে যান তিনি।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ফারস্তা ফায়ার স্টেশনের ইউনিট ম্যানেজার পিটার কার্লসন জানান, শিশুটি পানিতে পড়ে যাওয়ার পর তার বাবা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন, কিন্তু নিজে আর পানি থেকে উঠতে পারেননি।
এসময় ঘটনাস্থল দিয়ে যাওয়া এক নারী বাবা ও শিশুটিকে পানিতে বিপজ্জনক অবস্থায় দেখতে পান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবায় খবর দেওয়ার পাশাপাশি দুজনকে পানি থেকে তুলতে সহায়তা করেন।
শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং গুরুতর কোনো আঘাত ছাড়াই সে বেঁচে যায়। তবে বাবুলের অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্স হেলিকপ্টারে করে তাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। বুধবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফারস্তা ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা। ফুটব্রিজটির নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শনের সময় সেতুর রেলিংয়ে দুটি খোলা অংশ দেখতে পান তারা, যার নিচে ছিল গভীর পানি।
ফুটব্রিজটির দায়িত্বে থাকা ফারস্তা সিটি প্রশাসনের কর্মকর্তারাও পরিদর্শন করেছেন ঘটনাস্থল। সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি কমাতে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে তারা।
পরিদর্শনের সময় আরও একটি ত্রুটি ধরা পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে থাকা একটি লাইফবয়ে পাওয়া যায়নি কোনো দড়ি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।
সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাসিন্দা বাবুল সুইডেনে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। সন্তানকে জীবিত ফিরিয়ে আনতে পারলেও সেই উদ্ধারের পর আর ঘরে ফেরা হলো না বাবুলের।
একজন বাবার এই আত্মত্যাগের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশি পরিবারের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটেছে। পাশাপাশি ফুটব্রিজের নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে জনসাধারণের চলাচলের জায়গাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে, যার সমাধান স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






