কার্ডিফ, ৩১ অক্টোবর: ওয়েলসের নিউপোর্ট শহরের মেলোনিয়াম সেন্টারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ২০২৬। কেল্টিক টাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আসা ৪০টি দল অংশ নেয়।
সকাল ১২টা থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলা এই প্রতিযোগিতায় দলগুলো একের পর এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে মুখোমুখি হয়। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের অসাধারণ নৈপুণ্য ও নিখুঁত শট টুর্নামেন্টকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
ক্রীড়া সংগঠক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাবস নূরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের প্রেসিডেন্ট ও ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর। উপস্থিত ছিলেন নিউপোর্টের কাউন্সিলার সাহেদ আদনানও।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন ওয়েলস এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ডাইভার্সিটি স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং ওয়েলস কাউন্সিল ফর ভলান্টারি অ্যাকশনের ন্যাশনাল স্পোর্টস ডাইভার্সিটি ম্যানেজার রাজমা বেগম। কিড কেয়ার ফর ইউ’র প্রতিষ্ঠাতা রুসনা বেগম, কিডফুডস ও মাস বাজারের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী সামসুন নাহার খোলি, এসডব্লিউবির চেয়ারম্যান ও কেল্টিক ট্রাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের বোর্ড পরিচালক জিতু মিয়া এবং নিউপোর্ট মহিলা সংগঠনের সভানেত্রী আনোয়ারা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের সাউথ ওয়েলস রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রকিবুর রহমান ছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুখতার আহমেদ, সৈয়দ কাহের, শাহজাহান তালুকদার শাওন, এনামুল হোসেন সুয়েব ও আজম সবুজসহ অন্য অতিথিরা। ক্লাব কমকর্তা ও পরিচালকবৃন্দ চ্যাম্পিয়ন, রানার্স আপ ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টকে উৎসাহিত করেন সায়েম চৌধুরী, শাহ শাফী, আব্দুর রউফ তালুকদার, ফখরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, ফয়সল রহমান, সায়দুল ইসলাম, আদিল হুসেইন, কামিল আহমেদ, নাজমুল ইসলাম, মাসুম কামালি, আতিকুল ইসলাম, সাজেল আহমেদ ও বদরুল ইসলাম রিপনসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
টুর্নামেন্ট আয়োজনে কেল্টিক ট্রাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের সঙ্গে বিশেষ সহযোগিতা করে সাউথওয়েস্ট অ্যান্ড ওয়েলস ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন ইউকে (এসডব্লিউবিএ)। বৃটেনের কার্ডিফ থেকে সাংবাদিক বদরুল হক মনসুর এই তথ্য জানান।
ডিডি বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিউপোর্ট ও উইল্টশায়ারের সাঈদ ও সুফি জুটি। ব্রিস্টল ও প্লাইমাউথের নূর ও মুহিত জুটি হয় রানার্স আপ। এ বিভাগে সেমিফাইনালে খেলেন রিডিং ও ইস্টবোর্নের সামন ও আলী এবং সুইন্ডনের ফরহাদ ও শাহান জুটি।
ইই/ইই* বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে প্লাইমাউথের নাহিদ ও রানা জুটি। একই শহরের রস ও মনজু জুটি হয় রানার্স আপ। এ বিভাগে সেমিফাইনালে অংশ নেন বোর্নমাউথের খালিদ ও ইমরান এবং প্লাইমাউথের সাইদুল ও নূর জুটি।
আয়োজকরা জানান, খেলাধুলার সংস্কৃতির মাধ্যমে কমিউনিটির মানুষকে একত্রিত করা এবং একতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এই উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে কেল্টিক টাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের কমকর্তারা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। অনুষ্ঠানের খাবার প্রস্তুত করার জন্য নিউপোর্টের কলকাতা রেস্টুরেন্টকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি, সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, খেলোয়াড়, অতিথি ও সহযোগী সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের প্রেসিডেন্ট এবং মৌলভীবাজার জুনিয়র স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি মোহাম্মদ মকিস মনসুরসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা ব্রিটেনের নিউপোর্টে কেল্টিক ট্রাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের কমকান্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বিজয়ীদের অভিনন্দনও জানান।
অতিথিরা বলেন, খেলাধুলা এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা বয়স, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে একত্রিত করে। তাদের অভিমত, খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, দলগত ঐক্য, আত্মবিশ্বাস এবং সর্বোপরি ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়।
প্রসঙ্গত, ঊনবিংশ শতাব্দীতে তথা ১৮৬০-এর দশকে ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভারতের মাটিতে প্রথম এই খেলার সূচনা হয়। তখন এর নাম ছিল ‘পুনা’। পরে ১৮৭৩ সালে ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার পর এর নামকরণ করা হয় ‘ব্যাডমিন্টন’। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ব্যাডমিন্টন এখন জাতীয় খেলায় পরিণত হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও এই খেলাটি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যার সাম্প্রতিকতম প্রমাণ নিউপোর্টের এই আয়োজন।






