চল্লন্তিকা ক্রীড়া চক্রের ৪০ বছর পূর্তি, খেলাধুলার পাশাপাশি মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতি

চল্লন্তিকা ক্রীড়া চক্রের ৪০ বছর পূর্তি, খেলাধুলার পাশাপাশি মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতি - Surma Times | Sylhet News

চল্লন্তিকা ক্রীড়া চক্রের ৪০ বছর পূর্তি, খেলাধুলার পাশাপাশি মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতি - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট নগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের জৈনপুর এলাকায় খেলাধুলার প্রসার, তরুণদের সংগঠিত করা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার প্রত্যয়ে ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরু করে চলন্তিকা ক্রীড়া চক্র। চার দশকের পথচলায় সংগঠনটি ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা, কেক কাটা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে সংগঠনটি।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চলন্তিকা ক্রীড়া চক্রের সভাপতি মো. শাহীন রানা। সাধারণ সম্পাদক আফতাবুল কামাল রেকির পরিচালনায় এবং হাফেজ কারী জাহেদ আহমদের পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের চার দশকের পথচলা, ক্রীড়াক্ষেত্রে অর্জন এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চলন্তিকা ক্রীড়া চক্র খেলাধুলার বিকাশে কাজ করার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।

সংগঠনটির ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৯০ সালে আন্তজেলা ফুটবল প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এ সাফল্য সংগঠনটির ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার প্রসারেও কাজ করেছে সংগঠনটি।

তবে চলন্তিকা ক্রীড়া চক্রের কার্যক্রম শুধু মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। ঈদ ও পূজায় অসহায় মানুষের মধ্যে উপহার বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশ নিয়েছে সংগঠনটি। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এবং করোনাকালেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় তারা। সংকটের সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সংগঠনটির সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

সংগঠনটির কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রবাসী সদস্যদের অবদানও অনুষ্ঠানে গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বিদেশে অবস্থান করেও তাঁরা পরামর্শ, আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভিডিও কলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রবাসী শাখার উপদেষ্টা সৈয়দ শামিম হোসেইন, সভাপতি ফয়সল আহমদ জসী, নাজমুল হুদা মিনু ও কোষাধ্যক্ষ মোনায়েম খান।

অনুষ্ঠানের জন্য কেক উপহার দেওয়ায় প্রবাসী শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী কামরুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া আপ্যায়নের ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহযোগিতা করায় লন্ডনপ্রবাসী ইসলাম উদ্দিন, নাজমুল হুদা মিনু, নুরুল আম্বিয়া নিরু, কাজী রুহুল ইসলাম, মাসুম মিয়া ও রাসেল তাজকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনের শুরুতে সংগঠনের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা মরহুম কামাল উদ্দিন আহমদ এবং সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন, উস্তার মিয়া, সালেহ আহমদ, মাহবুব আলম খান, শাহাদাত আহমদ, বদরুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন পাশসা, গোলাম কিবরিয়া হীরা মিয়া, মনির উদিবদন, হাসান শহীদ হাসনুসহ প্রয়াত সদস্যদের স্মরণ করা হয়। তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা দিলওয়ার হোসেন দিলু ও জুনেদ আহমদ জুনু, সহসভাপতি মো. আব্দুস ছালাম ও মো. রকিব খান, কার্যপরিষদের সদস্য মো. আনা মিয়া, মঈন উদ্দিন ও সোহেল রানা, সহসাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মইন উদ্দিন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুহেদ আহমদ, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মুন্না আহমদ মাছুম, ক্রীড়া সম্পাদক শফি আহমদ, প্রচার সম্পাদক জুনেদ আহমদ এবং দপ্তর সম্পাদক খালেদ আহমদ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমার পাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক দিনার আহমদ, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মন্নান আহমদ, আব্দুল মতিন, মুজিবুর রহমান, বেলাল আহমদ, হীরা মিয়া, আশরাফ আলী, ইয়াছিন কাইয়ুম, সৈয়দ ইসমাইল, রাজু আহমদ, নাসির আহমদ নয়ন, আশরাফুল কামাল সাকি, রুবেল, মুজিব খান আমান, নিয়াজ, জামিল ও তামিম আহমদসহ আরও অনেকে।

বক্তারা সংগঠনটির অতীতের অর্জন ও সামাজিক অবদানের কথা স্মরণ করে ভবিষ্যতেও খেলাধুলার উন্নয়ন এবং মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা তরুণদের সংগঠিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হতে পারে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মোনাজাত করা হয়। পরে কেক কাটা ও উপস্থিত অতিথিদের আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। সভাপতি মো. শাহীন রানা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

চার দশকের এই পথচলায় চলন্তিকা ক্রীড়া চক্রের ক্রীড়াচর্চা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। খেলাধুলার প্রসারের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ধরে রাখার প্রত্যয় নিয়েই ৪০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করেছে সংগঠনটি।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article