শাহজালাল মাজারে আরও ৮৮ লাখ, চার মাসে তিন কোটি ছাড়াল

শাহজালাল মাজারে আরও ৮৮ লাখ, চার মাসে তিন কোটি ছাড়াল - Surma Times | Sylhet News

শাহজালাল মাজারে আরও ৮৮ লাখ, চার মাসে তিন কোটি ছাড়াল - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ২৫ অক্টোবর: শনিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা হয়েছে পঞ্চম দফায়। পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা।

গত জুন থেকে প্রকাশ্যে গণনা শুরু। চার মাসে পাঁচ দফায় মোট জমা পড়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা। সঙ্গে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার, গরু-ছাগলসহ নানা সামগ্রী। দানবাক্সের সব টাকা মাজারের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের রেওয়াজ ভেঙে প্রকাশ্য গণনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তাঁর উদ্যোগে ১৮ জুন পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন বাক্স স্থাপন করা হয়। ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিল করা হয়। এ নিয়ে সিলেটে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। সিলেট ছাড়ার আগে ২২ জুন তাঁর উপস্থিতিতেই তালা খুলে প্রথম দফায় গণনা হয়। পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যোগ হলে মোট দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। সেই গণনায় নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপাও পাওয়া যায়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) পঞ্চম দফায় এসেছে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ১৩.৫০ ওমানি রিয়াল, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৭ কাতারি রিয়াল, ১০০ বাহরাইনি দিনার, ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ২৯ মার্কিন ডলার, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট। এছাড়া ১১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২০ থাই বাত, ১৫ মালদ্বীপের রুফিয়া, ১০ হংকং ডলার, ১ ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি।

স্বর্ণ পাওয়া গেছে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা। রূপা ৩ ভরি ১৩ আনা। আগের চতুর্থ দফায় স্বর্ণ ছিল ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি।

২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজের জন্য সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা থাকবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা মেটানো হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভা শেষে এসব তথ্য জানান সদস্যসচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ৩৫ শতাংশের ব্যাংক হিসাব জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। টাকা গণনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাজারের পক্ষে একজন ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা অথবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন। সঙ্গে একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী।

মাজার পরিচালনার জন্য সাত সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি নিরাপত্তা, উন্নয়নসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। জেলা প্রশাসক থাকবেন আহ্বায়ক। কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। মোতোয়াল্লি থাকবেন সদস্যসচিব। নিয়োগ দেওয়া ব্যবস্থাপক সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক বলেন, আজকের টাকা আগের মতোই ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। এখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ কিছু ইউটিলিটি বিল ও আনসারের বেতন দেওয়া হবে। তিনজন লোক নিয়োগ দেওয়া হবে—ম্যানেজার, একাউনটেন্ট ও কম্পিউটার অপারেটর। তাদের নিয়োগের পর টাকার ৬৫ শতাংশ দিয়ে দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও মাসখানেক লাগতে পারে। তার আগে আরও একবার তাঁদের ব্যবস্থাপনায় টাকা গণনা হতে পারে।

টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উচ্চ পর্যায়ের কমিটি সবার সঙ্গে আলোচনা করেই শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাজার পরিচালনার অনেক খরচ আছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article