ঘর দিন, নয়তো বিষের বোতল: গোলাপগঞ্জের হিজড়াদের আর্তি

ঘর দিন, নয়তো বিষের বোতল: গোলাপগঞ্জের হিজড়াদের আর্তি - Surma Times | Sylhet News

ঘর দিন, নয়তো বিষের বোতল: গোলাপগঞ্জের হিজড়াদের আর্তি - Surma Times | Sylhet News

গোলাপগঞ্জ (সিলেট), ৬ নভেম্বর: নানা সমস্যায় জর্জরিত গোলাপগঞ্জের হিজড়ারা। তাদের নেই কোনো নিজস্ব ভূমি কিংবা বাসস্থান। পাচ্ছেন না হিজড়াভাতা ও সরকারি কোনো অনুদান। বাসা ভাড়া নিতে গেলে সহজে কেউ দিতে চায় না। আবার কোথাও বাসা পেলে দেখতে হয় মালিকের চোখরাঙ্গানি।

এসব সমস্যা ও বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন গোলাপগঞ্জের হিজড়ারা। এ সময় তাদের কথা শুনে ইউএনও সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জানা যায়, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের পুরকায়স্থ বাজার ও পৌর এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন ১০ জন হিজড়া। এসব কলোনীতে বসবাস করলেও প্রায় সময় দেখতে হয় মালিকের চোখরাঙ্গানি। তারা সরকারিভাবে তেমন কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না।

হিজড়ারা জানান, উপজেলায় ১০ জন হিজড়া রয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র ৪ জন পেয়েছেন হিজড়া ভাতার কার্ড। এ ছাড়া তারা সরকারি চাল, শীতের কম্বলসহ কোনো অনুদান পাচ্ছেন না। দুই বছর আগে কয়েকজন হিজড়াকে কম্বল দেওয়া হলেও আর কোনো সুবিধা পাননি তারা। মাঝেমধ্যে লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাদের চাল দেন।

বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের কার্যালয়ে রাণী হিজড়া, রেনু হিজড়া, শান্তা হিজড়া ও কোহিনুর হিজড়াসহ কয়েকজন হিজড়া বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। এ সময় হিজড়াদের গুরুমা রাণী হিজড়া তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

রাণী হিজড়া জানান, তাদের থাকার জায়গা ও ঘর নেই। বিভিন্ন কলোনীতে ভাড়াটে থাকলেও মালিকের চোখরাঙ্গানি দেখতে হয়। তারা লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের পুরকায়স্থ বাজারে একটি ভাড়াটে বাসায় ছিলেন। মালিক তাদের বাসা ছাড়তে বলেছেন। কিন্তু তারা অন্য কোথাও বাসা পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, আপনি আমাদের হয় থাকার জন্য ঘর দেন, না হয় বিষের বোতল দেন।

এ সময় ইউএনও তাদেরকে আশ্বস্ত করে বলেন, আপনাদেরকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

পরে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হিজড়া বা বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজনের প্রতি আমি আন্তরিক। হিজড়াদের সব ধরনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

হিজড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গোলাপগঞ্জের এই হিজড়াদের আর্থিক অসচ্ছলতা ও গৃহহীনতাই তাদের অনিশ্চয়তার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তাদের জীবনযাত্রার মান বদলে যেতে পারে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article