সিলেটের টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে প্রেমিকের সাথে ভারতে পালানোর পথে আটক প্রবাসীর স্ত্রী ও প্রেমিক

সিলেটের টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে প্রেমিকের সাথে ভারতে পালানোর পথে আটক প্রবাসীর স্ত্রী ও প্রেমিক - Surma Times | Sylhet News

সিলেটের টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে প্রেমিকের সাথে ভারতে পালানোর পথে আটক প্রবাসীর স্ত্রী ও প্রেমিক - Surma Times | Sylhet Newsসিলেট, ৫ সেপ্টেম্বর: প্রবাসী স্বামীর পাঠানো নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে দুই সন্তানকে ফেলে প্রেমিকের হাত ধরে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে সীমান্তে আটক হয়েছেন এক নারী ও তার প্রেমিক। গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সীমান্তের চাতলা বর্ডারের ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে তাদের আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

আটক দুজন হলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলীর বাসিন্দা মৃত মো. লিলু মিয়ার মেয়ে ফৈরদৌস আক্তার নাজু (২৭) এবং তার প্রেমিক গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঘা গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে বুরহান উদ্দিন উজ্জল (৩২)। নাজুর স্বামী হাবিবুর রহমান জীবিকার তাগিদে প্রবাসে রয়েছেন। তাদের ৯ বছর বয়সী ছেলে ও চার বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে।

দক্ষিণ সুরমা মডেল থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সন্তানদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘর নির্মাণের জন্য জমানো নগদ ৬ লাখ টাকা এবং প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের দুই ভরি স্বর্ণসহ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিলেট রেল স্টেশন থেকে রওনা হন নাজু ও উজ্জল। পরে তারা কুলাউড়ার চাতলা বর্ডারে পৌঁছান। সেখানে বাংলাদেশ সীমান্তের ইমিগ্রেশন পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহজনকভাবে তাদের আটক করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফৈরদৌস আক্তার নাজু তার প্রবাসী স্বামী হাবিবুর রহমানের মোবাইল নম্বর ইমিগ্রেশন পুলিশকে সরবরাহ করেন। এরপর পুলিশ হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি স্বজনদের জানায়। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের অভিভাবকের জিম্মায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তি দেওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী হাবিবুর রহমানের বড় ভাই কদমতলীর মৃত আসমান মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা মডেল থানায় ফৈরদৌস আক্তার নাজু ও বুরহান উদ্দিন উজ্জলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর গত ৫ সেপ্টেম্বর তিনি বাদী ও বিবাদী উভয়ের বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করেছেন। উভয় পক্ষকে পরদিন থানায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসআই কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার আগেও ফৈরদৌস আক্তার নাজু স্বামীর অজান্তে পরকিয়া সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার প্রতিরোধে ইমিগ্রেশন পুলিশের সতর্কতা ও সজাগ দৃষ্টির একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারে দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির কারণে সৃষ্ট সামাজিক জটিলতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article