হবিগঞ্জ, ৩১ জুলাই: হবিগঞ্জের মাধবপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের মামলায় প্রধান আসামি ফয়সল মিয়াকে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। একই অভিযানে অপহৃত ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে জগন্নাথপুর থানাধীন রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাঘমনা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, ভিকটিম হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানাধীন ইটাখোলা দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। ২০১১ সালে তার পিতা মৃত্যুবরণ করলে মা তাকে নিয়ে নানার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। একই বাড়িতে ১নং বিবাদী ফয়সল মিয়াসহ অন্য বিবাদীরা ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার প্রায় ৬ মাস আগে থেকে ফয়সল মিয়া ভিকটিমকে রাস্তাঘাটে দেখলেই বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করত, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিত। বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে গত ১৭/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে বিবাদীদের ভাড়াটিয়া হিসেবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ফয়সল মিয়া। পরদিন ১৮/০৫/২০২৬ খ্রি. সকালে ভিকটিম মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে বাড়ির পাশের সড়কে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ফয়সল মিয়া অন্যান্যদের সহযোগিতায় তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভিকটিমের মা মাধবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
পরে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জ এবং সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ১নং পলাতক আসামি ফয়সল মিয়াকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ফয়সল মিয়ার বয়স ২২ বছর। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানাধীন বাঘমনা এলাকার ইলাল উদ্দিনের ছেলে।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-৯ বলছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।





