বন্যপ্রাণী সেবার পথিকৃৎ সিতেশ রঞ্জন দেব আর নেই

বন্যপ্রাণী সেবার পথিকৃৎ সিতেশ রঞ্জন দেব আর নেই - Surma Times | Sylhet News

বন্যপ্রাণী সেবার পথিকৃৎ সিতেশ রঞ্জন দেব আর নেই - Surma Times | Sylhet Newsমৌলভীবাজার, ১৪ জুলাই: দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম পরিচিত মুখ, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট মহল, পরিবেশকর্মী এবং শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আহত ও অসুস্থ বন্যপ্রাণীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

শ্রীমঙ্গল রামকৃষ্ণ মিশন রোডের বাসিন্দা সিতেশ রঞ্জন দেব ব্যক্তি উদ্যোগে দেশের প্রথম বন্যপ্রাণী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটিতে আহত, অসুস্থ ও উদ্ধার করা বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হতো। পর্যটকদের কাছে এটি ‘সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা’ নামেও পরিচিত ছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের বাসভবন থেকে তার মরদেহ শ্রীমঙ্গল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের তর গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

সিতেশ রঞ্জন দেবের বন্যপ্রাণীপ্রেমের সূচনা পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায়। জানা যায়, ১৯৬২ সাল থেকে তার বাবা শ্রীশ দেব শখের বশে বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ শুরু করেন। বিভিন্ন প্রাণী উদ্ধার করে বাড়িতে এনে সেবা-শুশ্রূষা করতেন তিনি। বাবার কাছ থেকেই প্রাণী ধরার কৌশল এবং প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধের শিক্ষা পান সিতেশ রঞ্জন দেব। পরবর্তীতে তিনি শ্রীমঙ্গলে নিজ বাড়িতে একটি পশুপাখি সেবাশ্রম গড়ে তোলেন।

১৯৭১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় সিতেশ রঞ্জন দেবের পশুপাখি সেবাশ্রম। দীর্ঘদিনের সেই উদ্যোগ পরবর্তীতে আরও বিস্তৃত রূপ লাভ করে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, যা দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও সেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পায়।

বন্যপ্রাণী রক্ষায় কাজ করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকিও নিতে হয়েছে তাকে। ১৯৯১ সালে একটি ভালুকের আক্রমণে তিনি এক চোখ হারান এবং মুখ ও নাকে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। তবে সেই ঘটনার পরও বন্যপ্রাণীর সেবামূলক কাজ থেকে সরে আসেননি তিনি।

আজীবন বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা ও কল্যাণে নিবেদিত সিতেশ রঞ্জন দেবের মৃত্যু দেশের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন এবং দীর্ঘ কর্মযজ্ঞ ভবিষ্যতেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article