মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২৪ জুলাই: র্যাব-৯ এর পৃথক অভিযানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে ৫৭ বোতল দেশীয় মদসহ একজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছেন। একইদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে অভিযান চালিয়ে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করেছে র্যাব-৯।
শ্রীমঙ্গলে মদসহ গ্রেফতার
র্যাব-৯, সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারের একটি আভিযানিক দল গত ২৩/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক রাত ২১.০৫ ঘটিকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, শ্রীমঙ্গল থানাধীন কালীঘাট এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। পরে রাত ২১.১০ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে প্রমোদ ভৌমিক (৫৯) নামে একজনকে আটক করা হয়। তার হেফাজতে থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ২৫ বোতল (২৫ লিটার) দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়। পরে আরেকটি অভিযানে শ্রীমঙ্গল থানাধীন কালীঘাট ইউনিয়নের একটি চা বাগানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৩২ বোতল (৩২ লিটার) দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তে র্যাব-৯ এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি প্রমোদ ভৌমিক (৫৯), পিতা মৃত মানিক ভৌমিক, থানা শ্রীমঙ্গল, জেলা মৌলভীবাজার। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ও জব্দকৃত আলামত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নবীনগরে অস্ত্র উদ্ধার
অন্যদিকে, র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আভিযানিক দল গত ২৩/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক রাত ২০.২৫ ঘটিকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানাধীন কুলাসিন এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি কাটা গাছের নিকট অস্ত্র পাওয়ার সম্ভাবনার খবরের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে কাটা গাছের গোড়ার গর্তের ভেতর থেকে খাকি কাগজ ও পলিথিনে মোড়ানো একটি বিদেশী পিস্তল এবং ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
র্যাব-৯ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত আলামত জিডি মূলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
এছাড়া, গত ০৫ আগস্ট ২০২৪ খ্রি. তারিখের পর থেকে অদ্যবধি র্যাব-৯, সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে সর্বমোট ৪৯টি দেশী ও বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ০৬টি ম্যাগাজিন, ৩৭০৭০ গ্রাম বিস্ফোরক, ২৩৫টি ডেটোনেটর, ০৪টি সাউন্ড গ্রেনেড, ০৫টি পেট্রোল বোমা, ১১টি ককটেল এবং বিপুল পরিমাণ এয়ারগানের গুলিসহ ১৫৫টি এয়ারগান উদ্ধার করেছে বলে জানানো হয়।
মাধবপুরে মাদকসহ গ্রেফতার
র্যাব-৯ ও মাধবপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকেও ৩৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১৬ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অদ্য ২৪/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক রাত ০০.৫০ ঘটিকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাগরিকা পরিবহণে মাদক বহনের খবর পেয়ে মাধবপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়।
তল্লাশিকালে গাড়ির পিছনের সিট থেকে নামার চেষ্টা করায় মো. ফরিদুল ইসলাম (২৪), পিতা মো. মোস্তাফা, সাং কান্দাপাড়া, থানা রৌমারী, জেলা কুড়িগ্রামকে আটক করা হয়। পরে তার রাখা জলপাই রঙের ব্যাগ ও কালো পলিথিন থেকে ১৬ কেজি গাঁজা এবং ৩৮৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির উদ্দেশ্যে তা হেফাজতে রেখেছিল।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ও জব্দকৃত আলামত হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নবীনগরে হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে গুলি করে হত্যার পর লাশ গুম করার ঘটনায় র্যাব-৯ এর অভিযানে এক পলাতক আসামিও গ্রেফতার হয়েছে। গত ২৩ জুলাই ২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক রাত ২২.১০ ঘটিকার সময় নবীনগর থানাধীন থোল্লাকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১২নং পলাতক আসামি মো. তৌকির হোসেন (৩৫), পিতা হোসেন মিয়া, সাং থোল্লাকান্দি, থানা নবীনগর, জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ভিকটিম রিফাত (২৫) নবীনগর থানাধীন থোল্লাকান্দি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪/০৬/২০২৬ ইং তারিখ রাতে তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশ মেঘনা নদীর বালুর চরে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই নবীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখে উক্ত মামলার এজাহারনামীয় একজন আসামিকে র্যাব-৯ আগেই গ্রেফতার করেছিল। গ্রেফতারকৃত তৌকির হোসেনকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন, অস্ত্র উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।






