শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ৭ সেপ্টেম্বর: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নে দুই রাতের ব্যবধানে আটটি মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার রাতে ইউনিয়নের ভীমসী ও শাসন গ্রামে চোরেরা প্রণামী বাক্স, পিতল-কাঁসার বাসনাদি, বাদ্যযন্ত্র এবং শ্রীশ্রী মদন মোহন জিউর আখড়ার ঐতিহ্যবাহী পিতলের গোপালমূর্তি নিয়ে যায়।
পরপর এ চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েকদিন পার হলেও চুরি যাওয়া মালামাল এখনো উদ্ধার হয়নি। শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার রাত সাড়ে আটটায় শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, পুলিশ ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অধিকাংশ ঠাকুরঘর বসতবাড়ির বাইরে থাকায় কিছুটা অরক্ষিত ছিল। সামনে দুর্গাপূজা। তাই সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন থাকতে হবে। এ বিষয়ে আজ পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জরুরি সভা ও পাহারা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এলাকাবাসী। স্থানীয়ভাবে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে আটটায় ভূনবীর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ভীমসী রাধাগোবিন্দ সেবা আশ্রমে এক জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ সভায় সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতিটি পাড়ায় পৃথক কমিটি গঠন করে রাতে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ভূনবীর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দেব বিষয়টি নিশ্চিত করে অনতিবিলম্বে সব চোরকে গ্রেপ্তার ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।





