ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন অফিসার চীনা গোয়েন্দাগিরিতে দোষী সাব্যস্ত, হংকং কর্মীদের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ একজন কর্মরত ব্রিটিশ বর্ডার ফোর্স অফিসার চীনা গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি হোম অফিসের অভিবাসন ডেটাবেজে বিশেষ প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী কর্মীদের খুঁজে বের করতেন বলে আদালতে উঠে এসেছে।

লন্ডনের ওল্ড বেইলিতে শুনানি হওয়া মামলাটি যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। এ ঘটনার পর ফরেন অফিস চীনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। নিরাপত্তামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস এ ঘটনাকে “আমাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন” বলে উল্লেখ করেছেন।

দোষী সাব্যস্ত অফিসারের নাম চি লেউং “পিটার” ওয়াই, ৪০। তিনি ব্রিটিশ ও হংকং উভয় পাসপোর্টধারী। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি পদে অসদাচরণের দায়েও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তার সহ-আসামি চুং বিউ “বিল” ইউয়েন, ৬৫, যিনি সাবেক হংকং পুলিশ কর্মকর্তা এবং পরে ওয়াইয়ের হ্যান্ডলার হন, তাকেও একই গোয়েন্দা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

আদালতে বলা হয়, ওয়াই ২০২০ সালের ডিসেম্বরে হিথ্রো বিমানবন্দরে বর্ডার ফোর্সে যোগ দেন। এর মাধ্যমে তিনি অ্যাটলাস নামের সংবেদনশীল অভিবাসন ডেটাবেজে প্রবেশাধিকার পান, যেখানে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। তিনি ছুটির দিনে ও অসুস্থতার ছুটিতে এই প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী কর্মীদের তথ্য চীনা যোগাযোগকারীদের কাছে পাঠাতেন।

আদালতে আরও শোনা যায়, এ তথ্য পাচারের বিনিময়ে তিনি অর্থও পেতেন। তার অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর যাচাইব্যবস্থা ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিচার চলাকালে উঠে আসে, তিনি হংকং গণতন্ত্রপন্থীদের “তেলাপোকা” বলে আখ্যা দিতেন।

ওয়াই ও ইউয়েনকে ২০১৭ সালে চায়নাটাউনের একটি রেস্তোরাঁয় পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ২০২১ সালের মাঝামাঝি ইউয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াইয়ের হ্যান্ডলার হন। এরপর থেকে যুক্তরাজ্যে হংকং কর্মীদের কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত রিপোর্ট আদান-প্রদান চলত বলে আদালতে বলা হয়। ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ স্যার ইয়েন ডানকান স্মিথের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ আছে।

ওয়াইয়ের কর্মজীবনও আদালতে উঠে এসেছে। তিনি আট বছর রয়্যাল নেভিতে কাজ করেছেন, ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত মেট্রোপলিটন পুলিশে ছিলেন, পরে সিটি অব লন্ডন পুলিশের স্বেচ্ছাসেবী কনস্টেবল হন এবং নিজস্ব সিকিউরিটি কোম্পানিও প্রতিষ্ঠা করেন।

এই মামলাটি যুক্তরাজ্যে চীনা গোয়েন্দা তৎপরতা, সরকারি ডেটাবেজের নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কখনওই সহ্য করা হবে না এবং যুক্তরাজ্যে মানুষের নিরাপত্তা বিপন্ন করার জন্য চীনকে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানো হবে।

Share This Article