চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, সরকার বলছে এটি কেবল শুরু

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যে নেট মাইগ্রেশন এখন চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে, আর সরকার এটিকে নিজেদের অভিবাসন নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বছরে দীর্ঘমেয়াদি নেট মাইগ্রেশন দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
নেট মাইগ্রেশন কমল
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের সাময়িক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত বছরে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক নেট মাইগ্রেশন ১ লাখ ৭১ হাজারে নেমে এসেছে। আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার, তাই পতনটা বেশ বড়। ২০২১ সালের শুরু থেকে এটি সবচেয়ে কম পরিসংখ্যান, যখন ব্রেক্সিট-পরবর্তী অভিবাসন বিধি ও মহামারির প্রভাব একসঙ্গে কাজ করছিল।
মোট দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনও কমে ৮ লাখ ১৩ হাজারে নেমেছে, যা আগের বছরের ১০ লাখের তুলনায় ২০ শতাংশ কম। ২০২৩ সালের মার্চে এটি রেকর্ড ১৪ লাখ ৭০ হাজারে উঠেছিল, সেখান থেকে এ পতন অনেকটাই স্পষ্ট।
কেন কমল
ওএনএস বলছে, সবচেয়ে বড় কারণ হলো কাজের উদ্দেশ্যে আসা ইইউ-বহির্ভূত নাগরিকদের সংখ্যা কমে যাওয়া। এই শ্রেণিতে আগমন আগের বছরের তুলনায় ৪৭ শতাংশ কমেছে। আগতদের বড় অংশই ইইউ-বহির্ভূত নাগরিক, মোট ৬ লাখ ২৭ হাজার।
এই শ্রেণির মধ্যে ৪৭ শতাংশ পড়াশোনার জন্য, ২৩ শতাংশ কাজের জন্য, ১৪ শতাংশ আশ্রয়ের জন্য এবং বাকি অংশ পারিবারিক ও মানবিক কারণে এসেছেন। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি দেশত্যাগও কিছুটা কমে ৬ লাখ ৪২ হাজারে নেমেছে।
জাতীয়তা অনুযায়ী হিসাবেও ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্রিটিশ নাগরিকদের নেট মাইগ্রেশন ছিল মাইনাস ১ লাখ ৩৬ হাজার, অর্থাৎ দেশ ছাড়ার হার বেশি। ইইউ নাগরিকদের নেট আউটফ্লো ছিল মাইনাস ৪২ হাজার। ইইউ-বহির্ভূত নাগরিকরাই কেবল ইতিবাচক নেট মাইগ্রেশনে আছেন, তবে সেটিও আগের তুলনায় অনেক কম।
সরকারের অবস্থান
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলছেন, তিন বছরে নেট মাইগ্রেশন ৮২ শতাংশ কমেছে। তাঁর ভাষায়, যারা দেশকে অবদান রাখতে চান এবং উন্নত জীবন গড়তে চান, তাদের স্বাগত জানানো হবে, তবে সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি আরও একটি দক্ষতাভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার কথা বলেছেন, যা সস্তা বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে। সরকার এই পতনকে অভিবাসননীতির কঠোরতার প্রমাণ হিসেবে দেখাচ্ছে।
ভিসা ও আশ্রয়
২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বছরের হোম অফিসের তথ্যেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সব ধরনের ওয়ার্ক ভিসা কমে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম। স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭২৫, যা ডিসেম্বর ২০২৩-এর সর্বোচ্চের তুলনায় ৭৬ শতাংশ কম।
আশ্রয় চাওয়ার আবেদন ছিল ৯৩ হাজার ৫২৫টি, যা গত বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ কম হলেও এখনও ঐতিহাসিকভাবে উঁচু পর্যায়ে আছে। আবেদনকারীদের অর্ধেকেরও বেশি অনিয়মিত পথে, যেমন ছোট নৌকায়, যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন। প্রাথমিক অনুমোদনের হারও ৩৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
সবচেয়ে বেশি আশ্রয়প্রার্থী এসেছেন পাকিস্তান, ইরিত্রিয়া, ইরান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও সুদান থেকে। অনুমোদনের হারে বড় পার্থক্যও দেখা গেছে। সুদান ও ইরিত্রিয়ার হার বেশি, আর বাংলাদেশ, তুরস্ক ও ভারতের ক্ষেত্রে হার সবচেয়ে কম।
ব্যাকলগ কমেছে
প্রশাসনিক দিক থেকে সবচেয়ে বড় অগ্রগতির মধ্যে একটি হলো আশ্রয় ব্যাকলগ কমানো। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে এটি ৫৫ শতাংশ কমে ৪৮ হাজার ৭৫-এ নেমেছে। এটি সরকারের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাজ্যে অভিবাসন এখন আগের তুলনায় অনেক নিয়ন্ত্রিত, তবে আশ্রয়, ভিসা নীতি ও শ্রমবাজারের ওপর এই পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো দেখা বাকি।

