ইউকে ভিসা পোর্টালে ১ লাখ আবেদনকারীর পাসপোর্ট ছবি ও সেলফি ফাঁস

ইউকে ভিসা পোর্টালে ১ লাখ আবেদনকারীর পাসপোর্ট ছবি ও সেলফি ফাঁস
ইউকে ভিসা পোর্টালে ১ লাখ আবেদনকারীর পাসপোর্ট ছবি ও সেলফি ফাঁস

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যের ভিসা সহায়তা সেবা দেওয়ার ভান করা একটি ওয়েবসাইটে অন্তত ১ লাখ আবেদনকারীর পাসপোর্টের ছবি, সেলফি এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সাংবাদিকরা এ ঘটনার কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি উত্তর না দিয়ে আইনজীবী পাঠিয়ে দেয়।

টেকক্রাঞ্চের ২৬ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউকে ভিসা পোর্টাল বা ইউকে ভিজিট এবং ইটিএ-পাস নামে পরিচিত এই প্ল্যাটফর্মটি আবেদনকারীদের স্পর্শকাতর তথ্য একটি পাবলিকলি অ্যাক্সেসযোগ্য আমাজন সার্ভারে দীর্ঘ সময় ধরে উন্মুক্ত রেখেছিল। এটি কোনো জটিল সাইবার হামলা ছিল না, বরং একটি সাধারণ কনফিগারেশন ত্রুটির ফল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে কেউ সরাসরি ফাইলের লিংক জানলেই ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন ভিসার জন্য আবেদনকারীদের পাসপোর্টের ছবি ও সেলফি দেখতে পারত। অনেক ক্ষেত্রে ছবির ফাইলে এমবেডেড জিওলোকেশন ডেটাও ছিল, যা ছবি তোলার স্থান এবং কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বাড়ির ঠিকানাও প্রকাশ করে দিতে পারে।

আরও উদ্বেগজনক হলো, অনেক আবেদনকারী ধারণা করেছিলেন তারা সরাসরি যুক্তরাজ্য সরকারের GOV.UK ওয়েবসাইটে নথি জমা দিচ্ছেন। বাস্তবে এই ওয়েবসাইটের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের কোনো সম্পর্ক ছিল না। সরকারি ওয়েবসাইটে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন আবেদন বিনামূল্যে করা যায়।

টেকক্রাঞ্চ ২৪ মে এ বিষয়ে ইউকে ভিসা পোর্টালের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা পায়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইনজীবী ও জনসংযোগ প্রতিনিধিরা যোগাযোগ করেন। তবে তারাও বিষয়টির দায়ভার কার, ডেটা কতদিন উন্মুক্ত ছিল, কিংবা কেন এমন হলো, সে প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দেননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে ওই ডেটা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে ততক্ষণে ক্ষতি হয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন গুরুতর তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইউকে ভিসা পোর্টাল এখনো ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের জানাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন একাধিক প্রতিষ্ঠান কনফিগারেশন ত্রুটির কারণে গ্রাহকদের পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র ফাঁসের মুখে ফেলছে। অনলাইন পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবহার বাড়ায় এসব প্ল্যাটফর্মে সংবেদনশীল তথ্য জমা দেওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশনের জন্য আবেদন করতে হলে কেবল সরকারি gov.uk সাইট ব্যবহার করাই নিরাপদ। এতে তথ্য সুরক্ষিত থাকে এবং ফাঁসের ঝুঁকি কমে। তথ্যসূত্রঃ  Legali

Share This Article