সুদানে নির্যাতিত শরণার্থীরা এখন হোম অফিসের বিরুদ্ধে আদালতে লড়ছেন

সুদানে নির্যাতিত শরণার্থীরা এখন হোম অফিসের বিরুদ্ধে আদালতে লড়ছেন - Surma Times | Sylhet News

বিশ বছর অপেক্ষার পরিকল্পনাকে বৈষম্যমূলক বলা হচ্ছে।

Refugees Tortured in Sudan Are Now Fighting the Home Office in Court
সুদানে নির্যাতিত শরণার্থীরা এখন হোম অফিসের বিরুদ্ধে আদালতে লড়ছেন

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ দুইজন সুদানি আশ্রয়প্রার্থী যুক্তরাজ্যের নতুন শরণার্থী নীতির বিরুদ্ধে আদালতে লড়ছেন, যেখানে শরণার্থীদের ৩০ মাস করে অনুমতি দিয়ে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আগে ২০ বছর ধরে বারবার পুনর্মূল্যায়নের প্রস্তাব রয়েছে। তাদের দাবি, এ নীতি পরোক্ষভাবে বৈষম্যমূলক এবং বাস্তবে বিপজ্জনক অভিবাসনপথও থামাবে না।

নীতির মূল বিষয়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের প্রস্তাব অনুযায়ী, শরণার্থীরা আর একবারে পাঁচ বছরের অনুমতি পাবেন না। এর বদলে তাদের ৩০ মাসের অনুমতি দেওয়া হবে এবং মোট ২০ বছরের মধ্যে একাধিকবার তাদের অবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার আগে একজন শরণার্থীকে আটবারের মতো আলাদা মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

প্রস্তাবে পারিবারিক পুনর্মিলনেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। এখন থেকে স্বামী, স্ত্রী ও ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানদের যুক্তরাজ্যে আনার আগে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। সমালোচকদের মতে, এতে বাস্তবে পরিবারগুলো আরও দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকবে।

আদালতে চ্যালেঞ্জ

ডানকান লুইস সলিসিটর ফার্মের মাধ্যমে আনা মামলায় বলা হয়েছে, এই নীতি পরোক্ষ বৈষম্যের শামিল। বাদীপক্ষের বক্তব্য, ছোট নৌকায় আসা মানুষদের নিরুৎসাহিত করা কিংবা সত্যিকারের আশ্রয়প্রার্থীকে আলাদা করা, এই নীতির ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবে পূরণ হবে না। তাদের যুক্তি, এটি সুরক্ষা নয়, বরং নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া ও ডেনমার্কের সাময়িক সুরক্ষা ব্যবস্থা দেখিয়েছে যে এ ধরনের নীতি মানসিক চাপ, দারিদ্র্য এবং সামাজিক একীভূতকরণে বাধা তৈরি করে। সমালোচকদের মতে, পুনর্মূল্যায়ন ব্যবস্থায় প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ে, কিন্তু কার্যকর ফল কম হয়।

সুদানি দাবিদারদের যুক্তি

সুদানি আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়েছে, কারণ ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে সুদানি আশ্রয় দাবির ৯৬ শতাংশই সুরক্ষা মঞ্জুরের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বাদীপক্ষ বলছে, যাদের অধিকাংশেরই সুরক্ষার প্রয়োজন স্বীকৃত, তাদের ২০ বছর ধরে আট দফা মূল্যায়নের মধ্যে রাখা ন্যায্য নয়।

তাদের দাবি, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া বাস্তবে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার বদলে অধিকার পাওয়ার পথ বিলম্বিত করবে। বিশেষ করে যারা যুদ্ধ, নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার, তাদের জন্য এটি আরও বড় মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।

সরকারের অবস্থান

হোম অফিস বলছে, ইউরোপে আশ্রয় আবেদন কমলেও ব্রিটেনে তা বাড়ছে, তাই যুক্তরাজ্যের ব্যবস্থা আলাদা ও কঠোর হওয়া দরকার। সরকারের ভাষ্য, যারা সত্যিকারের বিপদে রয়েছেন, তাদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের জন্য নতুন নিরাপদ ও বৈধ পথের পাশাপাশি স্থায়ী বসবাসের দ্রুততর ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, যদি মূল সুরক্ষা পথেই ২০ বছরের অনিশ্চয়তা থাকে, তাহলে দ্রুততর পথের প্রতিশ্রুতি কার্যত কতটা বাস্তবসম্মত, সেটাই প্রশ্ন। তাদের মতে, নীতিটি মানুষকে থামাবে না, বরং শরণার্থীদের জীবন আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।

বড় প্রশ্ন

এই মামলাটি এখন শুধু দুইজন সুদানি আশ্রয়প্রার্থীর বিষয় নয়। এটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে মানবাধিকার, বৈষম্য এবং প্রশাসনিক কঠোরতার মধ্যে ভারসাম্য কোথায় থাকবে, সেই প্রশ্নও সামনে আনছে। আদালতের রায় ভবিষ্যতে আরও বহু শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

★★★★★

সুরমা টাইমস পড়ে ভালো লাগলো?
আপনার মতামত জানান!

গুগলে রেটিং দিন রিভিউ লিখুন ⭐
Share This Article