হবিগঞ্জ, ১১ আগস্ট: হবিগঞ্জের বাহুবলে গ্রাম্য রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে দুইজনকে হত্যার ঘটনায় র্যাব-৯-এর অভিযানে পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ১৫ জুন উপজেলার আদিত্যপুর এলাকায় সংঘটিত এ জোড়া খুনের ঘটনায় এজাহারনামীয় পাঁচ পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন সবুজ মিয়া (৪৫), আবু সুফিয়ান (২৫), রুবেল মিয়া (৩০), সামছু মিয়া (৪৬) ও কবির মিয়া (৫৫)। তাঁদের সবাই বাহুবল থানার হিলালপুর এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার উবাহাটা ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম সেলু মিয়া এবং হেলাল উদ্দিন হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার আদিত্যপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গ্রামের চলাচলের রাস্তা নিয়ে সেলু মিয়ার সাথে বিবাদীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। উক্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ১৫ জুন সন্ধ্যার পর বাহুবল থানায় সালিশ বৈঠকের সময় নির্ধারণ করার কারণে বিবাদীরা সেলু মিয়ার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।
এরই জের ধরে ওই দিন দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বিবাদীরা সেলু মিয়াকে স্থানীয় ডুবাঐ বাজারের পাশে একা পেয়ে বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে তার পথরোধ করে এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
সেলু মিয়ার চিৎকার শুনে হেলাল উদ্দিন তাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসলে বিবাদীরা তাকেও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন সেলু মিয়া এবং হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন এবং হেলাল উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ১০টা ২৬ মিনিটে হেলাল উদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন।
উক্ত ঘটনায় সেলু মিয়ার স্ত্রী বাদী হয়ে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ২৩ জুন দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় এজাহারনামীয় ৮, ১২, ২৩, ৩৬ ও ৪২ নম্বর পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই ও ২ আগস্ট একই মামলার আরও দুই আসামিকে র্যাব-৯ গ্রেফতার করেছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উক্ত মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৯-এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






